২৪ মে, ২০২৬
ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে পেপ গার্দিওলার ১০ বছরের রাজকীয় অধ্যায় শেষ হতে চলেছে। আগামী রবিবার ঘরের মাঠে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই ইতিহাদকে বিদায় বলবেন এই কাতালান ফুটবল গুরু। বিদায়ের ঠিক আগমুহূর্তে শুক্রবার (২২ মে, ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে তার উত্তরসূরি বা সিটির পরবর্তী ম্যানেজারের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দার্শনিক বার্তা দিয়ে গেলেন গার্দিওলা।
তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন, ম্যানচেস্টার সিটি কর্তৃপক্ষ যদি তার সাফল্যের ফর্মুলা হুবহু নকল করতে গিয়ে ডাগআউটে তার কোনো ‘কার্বন কপি’ বা অন্ধ অনুকরণকারী খোঁজার চেষ্টা করে, তবে দল বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
সিটির ডাগআউটে গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে তারই সাবেক সহকারী ও চেলসির সাবেক বস এনজো মারেস্কার নাম প্রায় চূড়ান্ত বলেই ফুটবল মহলে জোর গুঞ্জন। সিটির ম্যানেজমেন্ট নতুন কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে পেপের কোনো পরামর্শ নিয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এই ৫৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ কোচ বলেন, "ফুটবল কোচিংয়ের মতো জায়গায় ‘কপি অ্যান্ড পেস্ট’ বা অন্ধ অনুকরণ কখনো সফল হয় না। যে নতুন আসবে, তাকে তার নিজের ফুটবল দর্শনের প্রতি সৎ থাকতে হবে। প্রতিটি মানুষই অনন্য এবং তাদের কাজের ধরণও আলাদা। সিটির নতুন ম্যানেজারকে নিজস্বতা বজায় রেখেই ফুটবলারদের হ্যান্ডেল করতে হবে। যদি তিনি কারও নকল করার চেষ্টা করেন, তবেই সমস্যা তৈরি হবে। তিনি নিজের মতো থাকলে সিটির ভবিষ্যৎ অবশ্যই ভালো হবে।"
১০ বছরের সোনালী সফরে সিটিকে ৬টি প্রিমিয়ার লিগ এবং ক্লাবের ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ২০টি ট্রফি এনে দিলেও গার্দিওলার এই পুরো অধ্যায়ের ওপর এক বিশাল কালো মেঘের মতো চেপে বসে আছে সিটির বিরুদ্ধে আনা প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার ১১৫টি গুরুতর অভিযোগ। এই বিতর্ক মাথায় নিয়ে ক্লাব ছাড়লেও সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন পেপ।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের ওপর শতভাগ আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমি সিটির ম্যানেজমেন্টকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করি। আমি নিজে তাদের সাথে কথা বলেছি এবং তাদের কাজের স্বচ্ছতার ওপর আমার গভীর আস্থা আছে। আইনি প্রক্রিয়ায় যা-ই ঘটুক না কেন, এর একটি সুষ্ঠু সমাধান আসবেই। এ নিয়ে সমর্থকদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।"
বিদায়বেলায় ইতিহাদ স্টেডিয়ামে নিজের নামে স্ট্যান্ড এবং বাইরে নিজের ব্রোঞ্জের মূর্তি বসানোর ঘোষণার মাঝেও গার্দিওলার এই পরিপক্ব ও দূরদর্শী মন্তব্য প্রমাণ করে ডাগআউট ছাড়লেও ম্যানচেস্টার সিটির প্রতি তার ভালোবাসা এবং এর ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন নিয়ে তাঁর চিন্তা কতটা নিখুঁত।