০৯ জুন, ২০২৬
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা এ আদেশ দেন। এসময় আসামি মনির হোসেন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, গত বৃহস্পতিবার পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রটি রবিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন সোমবার ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। এরপর মঙ্গলবার আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার স্বাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অল্প সময়ের ব্যবধানে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। তবে তিনি নগরীর বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগর এলাকা বসবাস করেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে নগরীর বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠ সংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে চার বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তানভীর আহমেদ তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশু ও অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঘটনার পরদিন অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় রেকর্ড করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, ভুক্তভোগী ও আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।