দেশীয় চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে-আমিরে জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত
আল আমিন(নিজস্ব প্রতিনিধি):দেশীয় চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে হলে চিকিৎসকদের পেশাগত সততা, আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ইব্রাহিমপুরে অবস্থিত মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ব্রাঞ্চ-২)-এ ঢাকা-১৫ আসনের কাফরুল থানা দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশে থেকেই চিকিৎসা নেব। কারণ, মানুষকে বোঝাতে চাই, দেশেই চিকিৎসা সম্ভব, যদি আন্তরিকতা ও সক্ষমতা থাকে।
তিনি বলেন, সুস্থতা আল্লাহর হাতে। চিকিৎসক, হাসপাতাল বা ওষুধ শুধু মাধ্যম। বিদেশে গিয়ে অনেকেই কফিনে ফিরে আসছেন, আবার দেশেই অনেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাই জনগণকে দেশীয় চিকিৎসার প্রতি আস্থা রাখতে এবং চিকিৎসকদের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
চিকিৎসাসেবাকে আরও উন্নত করতে মেডিকেল শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার এবং হাসপাতালগুলোতে আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন,ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চান, তাদের সবাইকে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় নিয়ে কাজ করতে হবে।
ডা. শফিক বলেন, অতীতে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে নিজেদের জন্য সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তাদের হাতে আর যেন ক্ষমতা না তুলে দেওয়া হয়, সেদিকে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, দেশকে কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, তা ইসলামী শক্তির পক্ষেই দেওয়া সম্ভব।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করছে, যার মূল লক্ষ্য আর্তমানবতার সেবা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতি ক্ষমতা অর্জনের জন্য নয়, বরং সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য।
তিনি আরও বলেন, দেশে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। জামায়াত সেই রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতের নেতিবাচক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক এবং আল্লাহভীতিসম্পন্ন রাজনীতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি বারবার তুলে ধরেন।
জামায়াত আমির বলেন, তাদের দলের দুইজন সাবেক মন্ত্রী প্রমাণ করেছেন, সৎ, দক্ষ এবং যোগ্য নেতৃত্বই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে। জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন, দুর্নীতিমুক্ত থাকা এবং জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন নেতার প্রকৃত পরিচয়, এটি তারা দেখিয়ে গেছেন।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব আমাদের জন্য একটি বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তবে শঙ্কা এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি। তাই খুব সচেতনভাবে, সাহস ও সততার সঙ্গে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে জনগণকে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কাদের হাতে দেশ তুলে দেবেন। তিনি বলেন, যারা অতীতে মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি, ভয়ভীতি মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের আর সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, জনগণ যদি সত্য ও ইনসাফের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশকে দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত করে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।