পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার চেয়ারম্যান, আহত ২০
প্রতিকি ছবি
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদী এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান, পুলিশ, সাংবাদিক ও গ্রাম পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
আজ (১৯ মার্চ) দুপুরে টেপাখড়িবাড়ী একতা বাজার ও তেলিবাজার তিস্তা পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন, ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আফসার আলী, আনোয়ার হোসেন, লোকমান, পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম ও ঠাকুরদাস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি আরেফিন এবং ক্যামেরাম্যান আবু রায়হানসহ আরও অনেকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বোমা মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। সম্প্রতি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন এ কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন। তবে আজ সকালে ওই চক্রটি পুনরায় পাথর উত্তোলন শুরু করলে খবর পেয়ে চেয়ারম্যান কয়েকজন গ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় পাথর উত্তোলনকারী চক্রের সদস্যরা তার ওপর হামলা চালায়।
এতে চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গে থাকা গ্রাম পুলিশের সদস্যরা গুরুতর আহত হন। পরে থানা পুলিশ ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দায়িত্বরত চিকিৎসক চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আফসার আলী বলেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে চেয়ারম্যান হামলার শিকার হন এবং এতে প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জান জানান, আহত চেয়ারম্যান বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার বলেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়, এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।