২০০২: ব্রাজিলের জেতা শেষ বিশ্বকাপ

২০০২: ব্রাজিলের জেতা শেষ বিশ্বকাপ

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০০২ সালটি ছিল অনেকগুলো ‘প্রথম’ এর সাক্ষী। প্রথমবারের মতো ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে এশিয়ার মাটিতে (যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান) বসেছিল ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। এই আসরটি যেমন অঘটনের জন্য পরিচিত, তেমনি এটি ফুটবল বিশ্বকে দিয়েছিল রোনালদোর এক অবিশ্বাস্য পুনর্জন্মের গল্প। আর সেই আসরেই শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেলেসাওরা।

১৯৯৮ সালের ফাইনালের সেই রহস্যময় অসুস্থতা আর গত চার বছরের হাঁটুর ইনজুরি- সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২০০২ বিশ্বকাপে আবির্ভূত হন এক নতুন রোনালদো। পুরো টুর্নামেন্টে ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন তিনি। বিশেষ করে ইয়োকোহামায় জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে তার করা জোড়া গোল ব্রাজিলকে এনে দেয় তাদের ঐতিহাসিক পঞ্চম শিরোপা (পেন্টা)।

২০০২ বিশ্বকাপ ছিল বড় দলগুলোর জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। উদ্বোধনী ম্যাচেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সেনেগাল। এদিকে গ্রুপ পর্বই পার করতে পারেনি আর্জেন্টিনা, ইতালি ও স্পেনের মতো জায়ান্ট দলগুলো।

এদিকে ফুটবল বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে নিজেদের সেরা সাফল্য অর্জন করেছিল আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্ক। দুদলই সেবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছিল।

সেবার গ্রুপ পর্ব থেকেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখাতে থাকে দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ হারেনি তারা। দুই জয় ও একটি ড্রয়ে সর্বোচ্চ ৭ পয়েন্ট নিয়ে হয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। এরপর ইতালিকে ২-১ গোল ব্যবধানে হারিয়ে উঠে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে।

আর স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সেমির দেখা পায় স্বাগতিকরা। তবে জার্মানির কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় তাদের।

এদিকে একটি জয় ও একটি ড্রয়ের মাধ্যমে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেরা ষোলোতে জায়গা করে নেয় তুরস্ক। এরপর জাপানকে হারিয়ে কোয়ার্টারে এবং সেনেগালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে তারা। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলের কাছে হেরে যায় ১-০ গোল ব্যবধানে।

২০০২ সালের বিশ্বকাপে তুরস্কের হাকান শুকুর মাত্র ১০.৮ সেকেন্ডে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন। অন্যদিকে, রোনালদিনহোর সেই ফ্রি-কিক গোল (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে) ফুটবল বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিল এক নতুন জাদুকরের আগমনের কথা। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন জার্মানির অলিভার কান।

এদিকে এই বিশ্বকাপই ছিল কিংবদন্তি ফুটবলার পাওলো মালদিনি এবং গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার মতো তারকাদের শেষ বিশ্বকাপ।