২৮ অক্টোবর, ২০২৪
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে দুর্গম চরে মা-মেয়েকে গণধর্ষণের অভিযোগে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি ইব্রাহিম তোতার স্বজনদের দাবি, চর এলাহী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন (ইব্রাহিমের বাবা) হত্যা মামলাকে ধামাচাপা দিতে তাকে রাজনৈতিকভাবে শক্রতার জের ধরে তাকে আসামি করা হয়েছে।
রবিবার সকালে এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা হয়।
এর আগে, ২১ অক্টোবর রাতে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের দুর্গম চর বালুয়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর ভিকটিম অভিযোগ করে মামলা করেন থানায়।
এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন-চরএলাহী ইউনিয়নের চরবালুয়া গ্রামের হানিফ চৌকিদারের ছেলে মো. হারুন (৪০) ও একই গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে মো. হাসান (৩৮)।
এদিকে, রবিবার দুপুরে নির্যাতিতদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার নারীর (৩৫) স্বামী চট্টগ্রামে গাড়ি চালান। উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের এক দুর্গম চরে ওই নারী তার এক তালাকপ্রাপ্ত মেয়েকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। তার দূর সম্পর্কের ফুফাতো দেবর প্রায় তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এ নিয়ে স্থানীয় রাশেদ, সাইফুল, হাসান, হারুন, রাজু ও ইব্রাহিম তাদের মা-মেয়েকে সন্দেহ করতেন।
গত রবিবার রাত ১১টার দিকে ছয় যুবক ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে যান। একপর্যায়ে তারা ঘরের দরজা খুলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা ওই নারীর দূর সম্পর্কের দেবরকে (২১) বেঁধে তাকে ও তার মেয়েকে (২০) ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যান এবং দেবরের সাথে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং চাঁদা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে আরও বলেন, যুবকদের মধ্যে তিনজন তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় বাড়ির পুকুর পাড়ে। অন্যরা তার মেয়েকে বসতঘরের পাশের রান্নাঘরের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে রাত তিনটা পর্যন্ত পালাক্রমে ওই যুবকরা তাদের ধর্ষণ করে। যাওয়ার সময় টাকা-পয়সাসহ ঘরের জিনিসপত্রও লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামি ইব্রাহিম তোতা অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় আমি জড়িত নই। গত কিছু দিন আগে চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমার বাবা আব্দুল মতিন তোতাকে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকে রাজ্জাক বাহিনী আমাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের করেন। নির্যাতিত নারী রাজ্জাক চেয়ারম্যানের নিকট আত্মীয়। মূলত আমার বাবার হত্যা মামলাকে চাপা দিতে ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিহিংসামূলক আমার নাম জড়িয়ে দেয়। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। একই সাথে আমি অপরাধী হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছয়জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। দুই আসামিকে গ্রেফতার করে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নির্যাতিতদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে।