১০ ডিসেম্বর, ২০২৪
বড় হয়ে ইচ্ছা ছিল পরিবারের হাল ধরার, কারো ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা শিখে ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। বাবা-মায়ের সেবা করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ইচ্ছেগুলো ঝরে গেছে ছোটবেলাতেই। শৈশবে ছুটে বেড়িয়েছেন গ্রামের পথে প্রান্তরে অথচ এখন হাঁটার শক্তি নেই, পারেন না দাঁড়াতেও।
কোথাও যেতে হলে কারো সাহায্য বা টোল টেনে করতে হচ্ছে চলাফেরা তবুও সৃষ্টিকর্তার ইবাদতে ব্যস্ত থাকেন ৪ প্রতিবন্ধী ভাই-বোন। নিয়মিত নামাজও পড়েন তারা।
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নে হরিপুর গ্রামের একই পরিবারের শারিরিক প্রতিবন্ধী চার ভাই-বোন। চার ভাই-বোনের বয়স যখন ১০ থেকে ১২ বছর এরপর থেকেই হাত-পা ছোট। চিকন ও বেঁকে হওয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। তাই তারা স্বাভাবিক কাজকর্মও করতে পারেন না। এখন তাদের যেন কষ্টের শেষ নেই।
জন্মের পর থেকে সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী আব্দুল হাকিম, ৩১ বছর বয়সী আলমগীর, ৩০ বছর বয়সী সালমা ও ২৭ বছর বয়সী আব্দুর রহমান। কিন্তু চার ভাই বোনের জীবনে ছন্দপতন ঘটে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সের পর থেকেই। বয়স বাড়লেও বাড়েনি তাদের আর উচ্চতা। আস্তে আস্তে তাদের হাত-পা ছোট, চিকন ও বেঁকে হয়ে পড়ে। পরে অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখালেও কোনো লাভ হয়নি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দেখাতে পারেনি ভালো কোনো ডাক্তারও। ছেলে-মেয়েদের এমন পরিস্থিতি দেখে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মা।
এরপর চার ভাই-বোনকে দেখাশুনার জন্য তাদের বাবা আবারো বিয়ে করেন। বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে না পারায় তাদের দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করেন সৎ মা মোছা. কমলা। নিজের সন্তান না হলেও প্রতিবন্ধী চার ভাই-বোনকে নিজের সন্তানের মতোই পরম আদরে দেখশুনা করছেন।
নানা রকম সংগ্রাম করে জীবন-জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছে পরিবারটি। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটিকে সহায়তায় সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।