২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪
ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শেখ হাসিনা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ওই হলের এক আয়া ও তার মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর হল প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী। ভুক্তভোগী রোজিনা খাতুন অভিযুক্তের অফিসে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে আয়ার কাজ করেন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুর পর রোজিনা ২০১৪ সাল থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে শেখ হাসিনা হলে কাজ করে আসছেন। কাজ করার সময় অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক বিভিন্ন সময়ে তাকে কুপ্রস্তাবসহ তার মেয়েদের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার জন্য ভুক্তভোগীর বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত তাকে কাজ থেকে বের করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন। ২০২১ সালে হলে রোজিনার ছোট মেয়েকে একা পেয়ে অভিযুক্ত রাজ্জাক তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন রোজিনা। তখন লোকলজ্জার ভয়ে এবং অভিযুক্ত প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ না করে তিনি বিষয়টি গোপন রাখেন। সর্বশেষ গত ১১ ডিসেম্বর দুপুরে হলে কাজ করার সময় ভুক্তভোগীকে অবৈধ মেলামেশার প্রস্তাব দেয় রাজ্জাক। এসময় ভুক্তভোগী রোজিনা কৌশলে তার কবল থেকে বেরিয়ে আসেন।
ভুক্তভোগী রোজিনা খাতুন বলেন, হলে কাজের শুরু থেকেই সে আমাকে ও আমার মেয়েদের দিয়ে তার অবৈধ যৌনলালসা পূরণের চেষ্টা করে। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সব সময় আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। একপর্যায়ে আমার মেয়ের প্রতিও তার কুনজর পড়লে আমার মেয়ে ভয়ে তার সামনে যেতো না। এতদিন ভয়ে মুখ খুলিনি। আমি আমার মেয়েদেরকে নিয়ে আতঙ্কে দিনাতিপাত করছি। আমি তার বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।আমি একসময় জাসদ ছাত্রলীগ করতাম। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কেউ এটা করে থাকতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, আমি গতকাল (রবিবার) অফিসের শেষ সময়ে অভিযোগটা পেয়েছি। এজন্য বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাইনি। হল বডির সদস্যদের সাথে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি করা হবে।