২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
সামাজিক মাধ্যমে সরব থাকেন জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর। বাংলা সংগীতের যুবরাজ খ্যাত এই সংগীতশিল্পী বিভিন্ন অবক্ষয় নিয়ে কথা বলেন নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে। তবে নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সময় দিয়েছিলেন ১০০ দিন। এরপর আলোচনা সমালোচনা করবেন বলে জানিয়েছিলেন। শত দিন কাটতে আসিফ সরকারের উদ্দেশে ছুড়ে দিয়েছিলেন পাঁচ প্রশ্ন। তার এক মাসের মাথায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দিলেন স্পষ্ট বার্তা।
গতকাল নিজের ফেসবুকে আসিফ লেখেন, ‘অন্তর্বতীকালীন সরকারের জবাবদিহিতা এখন সময়ের দাবি। ৯টা-৫টা অফিস করে দেশ চালানো অসম্ভব। মুক্তি দিন, অথবা মুক্ত হয়ে যান।’
এর আগে সরকারকে ৫ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘মিডিয়ায় বলেছিলাম অন্তবর্তী সরকারের একশো দিন পূর্ণ না হলে আলোচনা-সমালোচনায় যাব না। নতুন সরকারকে একশো দিন সময় দেওয়া এক ধরনের সৌজন্যতা। আমার তরফ থেকে সৌজন্যতা শেষ, এখন থেকে ভালমন্দ লিখতে হবে, পুরনো অভ্যাস। শুরু করতে চাই আমার জেলা কুমিল্লা নিয়ে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ দুজনেই কুমিল্লার সন্তান, দুজনেই সরকারের প্রভাবশালী সভাসদ, আপনাদের অভিনন্দন।’
এরপর লিখেছিলেন, ‘এই মওসুমে বিপিএল ক্রিকেটে কুমিল্লা নেই কেন! এই প্রশ্নের উত্তর তিন নম্বর আসিফ, অর্থ্যাৎ আমার কাছে জানতে চায়, আমি নিজেও জানতে চাই। আসিফ মাহমুদ আপনি এই সহজ ব্যাখ্যাটা দিয়ে দিন প্লিজ।’
গায়কের পরের প্রশ্ন, ‘কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি এখনোও কেন দেওয়া হয়নি! কেন এখনো অনিশ্চয়তা! মূল কমিটি তাহলে কবে হবে? খেলাধুলার ইয়ার ক্যালেন্ডার কীভাবে হবে? এদিকে লোকাল খেলাধুলা বন্ধ হয়ে আছে!’
তৃতীয় প্রশ্নে লিখেছিলেন, ‘ঢাকার ফুটবল টিমকে কুমিল্লা স্টেডিয়াম বরাদ্দ দেওয়ার কারণ কী! তারা হোমগ্রাউন্ড বানিয়ে খেলবে আর কুমিল্লার খেলোয়াড়রা থাকবে মাঠের বাইরে, এটা কোন ধরনের যুক্তি! ক্রিকেট মওসুম শুরু হয়ে গেছে, অথচ মাঠ দখল করেছে ঢাকার ক্লাব ফুটবল দল! কুমিল্লার খেলোয়াড় সৃষ্টিতে মহা প্রতিবন্ধক এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কেন!’
পরের প্রশ্ন, পতিত স্বৈরাচার হাসিনা কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে কলোরেক্টাল (Colorectal) অ্যালার্জিতে ভূগে শেষমেশ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো। আপনারা এবার কাইন্ডলি কুমিল্লাবাসীকে জানান— কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে বাঁধা কোথায়! অগ্রগতি কতদূর!’
শেষ প্রশ্নে আসিফ লিখেছিলেন, ‘কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া— ছয় জেলায় প্রবাসী আধিক্য বেশি। কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার দাবি বহু আগে থেকেই সরব, আপনাদের পদক্ষেপ কী— জানতে চাই।’
সবশেষে গায়ক বলেছিলেন, ‘আসলে স্বাধীনতার পরে কুমিল্লা জেলাবাসী বিরাট বিরাট নেতা মন্ত্রী পেয়ে শুধু তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছে, মেডিকেল কলেজ আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কুমিল্লাবাসীর পক্ষ থেকে করা এই জরুরী প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।’