১৫ জানুয়ারী, ২০২৫
টিআই তারেক: আবহমান বাংলার খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য রক্ষায় যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলায় তৃতীয় বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে গুড় মেলা’র। ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ বুধবার সকালে যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম মেলার উদ্বোধন করেন।
"যশোরের যশ খেঁজুরের রস" ‘‘স্বাদে সেরা, গন্ধে ভরা খেজুর গুড়ে মনোহরা’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারন করে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় গাছিদের নিয়ে তিন দিন ব্যাপী গুড় মেলার আয়োজন করা হয়। ১৫ জানুয়ারি বুধবার থেকে ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত উপজেলা চত্তরে মেলা চলবে।
২০২৩ সালের ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে সর্বপ্রথম যশোরের চৌগাছা উপজেলায় খেজুর গুড়ের মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। এ মেলা এ বছর তৃতীয় বর্ষে পর্দাপন করলো।
জেলা প্রশাসক মোঃ আজাহারুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে দেশের চিনি শিল্প বন্ধ করা হয়েছিল। দেশিয় চিনি কল বন্ধ করে নিন্মমানের চিনি আমদানি করে দেশের অর্থনীতি এবং জনস্বাস্থের ক্ষতি করা হয়েছে। যশোরের ব্রান্ডপন্য খেজুর রসের গুড় জাতীয় অর্থনীতির যেমন একটি সম্ভাবনাময় খাত হয়ে উঠতে পারে। তেমনি চিনির বিকল্প হিসেবেও পুষ্টি সমৃদ্ধ খেজুর গুড় খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, খেজুর গুড় উৎপাদনের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারলে গাছীদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হবে না। খাঁটি গুড় তৈরি করতে পারলে দেশ বিদেশে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।
উপজেলা চত্বরে বৈশাখী মঞ্চে অনুষ্ঠিত গুড় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুষ্মিতা সাহা। তিনি খেজুর গুড় শিল্পকে রক্ষায় এবং তদারকির জন্য একটি গুড় ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন, উপজেলা কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান, চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা আমির মাও. গোলাম মোরশেদ, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ অন্যান্যরা।
এসময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, সংবাদকর্মী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ গাছিরা উপস্থিত ছিলেন।
গাছিরা তাদের উৎপাদিত নির্ভেজাল গুড় বিক্রির জন্য উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মেলায় আসেন। ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা প্রতিকেজি গুড় বিক্রি করছেন। পাটালি বিক্রি করেছেন ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।
এছাড়া মেলায় খেজুর গুড়ের তৈরি বিভিন্ন পিঠা পুলির স্টলও বসেছে। খেঁজুর গুড়ের সেই পুরোনো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে এবং দেশিয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে গুড়ের চাহিদা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসনের এই ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন মেলায় আসা দর্শনার্থীরা।
মেলাস্থলে রস জ্বালানোর পাত্র তাপাল থেকে খেঁজুর গাছের পাতা দিয়ে গুড় তৈরি তৈরি করার আয়োজন করা হয়।