১৬ জানুয়ারী, ২০২৫
ভারতের নৌবাহিনী একসঙ্গে একটি সাবমেরিন, একটি ডেস্ট্রয়ার ও একটি ফ্রিগেট চালু করেছে। এই পদক্ষেপ ভারতের সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ। দিল্লির উদ্যোগের লক্ষ্য ভারত মহাসাগরে চীনকে মোকাবিলায় নিজের প্রভাব ও শক্তি বাড়ানো। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত দেশীয়ভাবে নির্মিত এই নৌযানের কমিশনিং অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত প্রভাব বিস্তারে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ভারত তার অবস্থান সুদৃঢ় করছে।
মোদি বলেন, আমরা নৌবাহিনীকে এই শতাব্দীর জন্য প্রস্তুত করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছি।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে ভারত মহাসাগর ক্রমেই আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, আটলান্টিক মহাসাগর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কৌশলগত গুরুত্ব এখন ভারত মহাসাগরের দিকে সরে আসছে। ফলে এই অঞ্চল আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রেক্ষাপটে ভারত নিজের সোভিয়েত যুগের অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সম্প্রসারণের দিকে মনোনিবেশ করছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটি অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি।
এই বিনিয়োগের অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর বহর দ্রুত সম্প্রসারণ করছে ভারত। বুধবার চালু হওয়া নৌযানগুলো ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত শিপইয়ার্ডে নির্মিত।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নৌযানের কমিশনিং আমাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় বৈশ্বিক নেতা হওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
নয়া দিল্লি আগামী দশকের মধ্যে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের সংখ্যা প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে।
২০২২ সালে ভারত তার প্রথম দেশীয়ভাবে নির্মিত বিমানবাহী রণতরী চালু করেছে, যা আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের ব্যাপক ও ক্রমবর্ধমান বহরের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে, রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে মোদি সরকার উদ্যোগী হলেও, ভারত এখনও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও স্পেনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহযোগিতা এবং বড় আকারের অস্ত্র চুক্তি সম্পাদন করেছে ভারত।
প্যারিসের সঙ্গে ফ্রান্স-নির্মিত রাফায়েল যুদ্ধবিমান এবং স্করপিন-শ্রেণির সাবমেরিন কেনার জন্য বহু-বিলিয়ন ডলারের চুক্তি নিয়ে আলোচনাও চলছে।