বিএনপির এক পক্ষের মানববন্ধনে আরেক পক্ষের হামলা

২৩ জানুয়ারী, ২০২৫

নোয়াখালীতে ঠিকাদারি কাজে বাধা, হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে আয়োজিত বিএনপির এক পক্ষের মানববন্ধন-সমাবেশে আরেক পক্ষের লোকজন হামলা চালিয়েছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ৫জন আহত হয়েছেন। 

গতকাল দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে হামলার এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে এবং নোয়াখালী প্রেসক্লাবে ব্যাপক ইট পাটকেল মারতে থাকে। এ সময় সড়কে থাকা একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসও ভাঙচুর করা হয়।

জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঠিকাদার আবদুল করিম মুক্তার নেতৃত্বে একটি মানববন্ধন চলছিল। মূলত নোয়াখালী শহর বিএনপির সভাপতি আবু নাছেরের বিরুদ্ধে মুক্তার ঠিকাদারি কাজে বাধা, স্কেভেটর মেশিন ভাঙচুর ও শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করার প্রতিবাদে এই মানববন্ধন চলছিল। কর্মসূচির শেষ দিকে হঠাৎ করে আবু নাছেরের ছোট ভাই জুয়েলের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মানববন্ধনে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে সাংবাদিকসহ অন্তত ৫ জন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস। খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে আব্দুল করিম মুক্তা বলেন, আমি ঠিকাদার ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকে নোয়াখালী পৌরসভার ৫ ওয়ার্ডের কাজী কলোনির হাউজিং এস্টেটের আওতাধীন মাঠ ভরাটের জন্য চুক্তি করি। ওই মাঠে মাটি ভরাটের কাজ চলমান অবস্থায় নোয়াখালী পৌরসভা বিএনপি সভাপতি আবু নাছেরের লোকজন ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার চলমান কাজের লোকজনের ওপর হামলা করে ও মাটি ভরাটের কাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটর ও পিকআপ ভাঙচুর করে চলে যায়। 

আব্দুল করিম মুক্তা আরও বলেন, প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধন করতে গেলে কর্মসূচির শেষের দিকে হঠাৎ করে আবু নাছেরের ছোট ভাই জুয়েলের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মানববন্ধনে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে সাংবাদিকসহ অন্তত ৫ জন আহত হন। একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। আমরা ন্যায় বিচার দাবি করছি। 

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে শহর বিএনপির সভাপতি আবু নাছের বলেন, ঠিকাদারি কাজে হামলা কিংবা মানববন্ধনে হামলা; দুটোর কোনোটাই তার জানা নেই। তবে যদি আমার লোকজন এসব করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।  

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।