০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকায় শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার ২০তম আসর ‘ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০২৫’। ভ্রমণ ও পর্যটন বিষয়ক প্রকাশনা ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’ আয়োজিত এ মেলাটি চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। মেলাটির উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
গতকাল সোমবার সোনারগাঁ হোটেলের মেঘনা হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পত্রিকাটির সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষণ করাই এ মেলার প্রধান লক্ষ্য। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশকে যথাযথভাবে ব্র্যান্ডিং করতে না পারায় বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশে ওয়াগনের চেয়ে ইঞ্জিনের সংখ্যা বেশি’। পর্যটন খাতের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেন কাজী ওয়াহিদুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, গালফভুক্ত দেশগুলোতে থাকা প্রবাসীদের কথা বিবেচনা করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ডানা মেলছে ইউএস বাংলা। দেড় লাখ বাংলাদেশির কথা চিন্তা করে ঢাকা-মালদ্বীপ রুট চালু করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অ্যারোনটিক্যাল চার্জসহ অন্যান্য চার্জ কমানো হলে এবং জেট ফুয়েলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা গেলে যাত্রীদের আরও কম খরচে উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। এসব বিষয়ে সরকারের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা পেলে জিডিপিতে পর্যটন ও এভিয়েশন খাতের অবদান তিন থেকে সাত শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিপনন) একেএম শহিদুল ইসলাম, ফার্স্টট্রিপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হাসনাইন রফিক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের কার্ড বিভাগের প্রধান আবু বকর সিদ্দীক বক্তব্য দেন।
এবারের পর্যটন মেলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, জর্ডান, ভারত এবং স্বাগতিক বাংলাদেশের ৫০টির অধিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থাকছে জাতীয় পর্যটন সংস্থা, এয়ারলাইন, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল-রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ভ্রমণ ও পর্যটন সংক্রান্ত অন্যান্য কোম্পানি।
এবারের ট্রাভেল মার্ট ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এখানে প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে জনপ্রতি ৫০ টাকা। ভিজিটররা প্রবেশ টিকিটের ওপর আয়োজিত র্যাফেল ড্র’তে ৪৫টি আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবেন। র্যাফেল পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ভ্রমণের জন্য রিটার্ন এয়ার টিকিট, দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও রিসোর্টে আবাসন, দেশের তারকা হোটেলগুলোতে লাঞ্চ ও ডিনার ইত্যাদি।
মেলা চলাকালীন অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য এয়ার টিকিট, হোটেল ও রিসোর্ট রুম, ভ্রমণ প্যাকেজ ইত্যাদির ওপর আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের প্রতিশ্রুতি দেন আয়োজকরা।
এবারের আসরের টাইটেল স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, কো-স্পন্সর অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফার্স্টট্রিপ এবং ট্রাভেল কোম্পানি আকিজ এয়ার। মেলার এয়ারলাইন পার্টনার জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং ব্যাংকিং পার্টনার মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।