ফিলিস্তিনির ফেরত দেওয়া চার মরদেহের একটি নিয়ে ইসরায়েলের তোলপাড়

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

মধ্যপ্রাচ্যের নির্যাতিত রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস এরই মধ্যে যে চার মৃতদেহ ইসরায়েলকে ফেরত দিয়েছে, তার মধ্যে একটি কোনো জিম্মির নয় বলে অভিযোগ তুলেছে তেল আবিব।

আজ শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইতোমধ্যে যে চারটি মৃতদেহ হাতে পেয়েছে তার মধ্যে ৯ মাস বয়সী কুফির বিবাস ও তার চার বছর বয়সী ভাই অ্যারিয়েল থাকলে তাদের মা শিরি নেই। চুক্তি অনুযায়ী, শিরিসহ চারটি মৃতদেহ হস্তান্তরের কথা ছিল।

শিরির বদলে যে মৃতদেহটি দেওয়া হয়েছে তা কোনো জিম্মির সঙ্গেই মেলে না এবং এর পরিচয় অজ্ঞাত, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর বরাতে এমনই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ মিডিয়া বিবিসি নিউজ।

চতুর্থ মরদেহটি ওদেদ লিফশিৎজের। তার পরিবারে সদস্যরা মৃতদেহ শনাক্ত করার কথা এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে।

“এটি হামাস কর্তৃক (চুক্তির) গুরুতর লঙ্ঘন, চুক্তি অনুযায়ী তারা ৪টি মৃতদেহ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য ছিল,” শিরিসহ জীবিত ও মৃত সব জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

যদিও বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হামাসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযোগের আগেই চার মৃতদেহ হস্তান্তরের পর প্রচারিত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রেকর্ড করা এক ভাষণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী হামাসকে পুরোপুরি নির্মূলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার হস্তান্তরের সময় ফিলিস্তিনি এক সশস্ত্র যোদ্ধাকে একটি পোস্টারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, যে পোস্টারে ইসরায়েলি পতাকায় মোড়ানো কফিনের ছবির পাশাপাশি লেখা ছিল- ‘যুদ্ধের প্রত্যাবর্তন = কফিনে তোমাদের বন্দিদের প্রত্যাবর্তন’।

মৃত জিম্মিদের মরদেহগুলো নিয়ে যেভাবে শোভাযাত্রা করা হয়েছে ও সেগুলো প্রদর্শিত হয়েছে তাকে ‘জঘন্য ও ভয়াবহ’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী- মরদেহ এমনভাবে হস্তান্তর করা উচিত যাতে মৃত ও তার পরিবারের সদস্যদের মর্যাদা নিশ্চিত করা যায়, মহাসচিব এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছেন তার মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জানিয়েছে, ইয়ার্ডেন বিবাস, তার স্ত্রী শিরি ও দুই ছেলেকে ইসরায়েলে হামলার সময় কিবুৎজ নির ওজ থেকে জিম্মি করে হামাস।

২০২৩ সালের নভেম্বরে তারা জানায়, ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিরি ও তার দুই ছেলে নিহত হয়েছে।

তাদের এ দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করতে পারেনি।

বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে জীবিত ইয়ার্ডেন বিবাস চলতি মাসেই হামাসের হাত থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের ওই হামলায় প্রায় এক হাজার দুইশ লোকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তেল আবিব, অপহৃত হয় ২৫১ জন।

এর পাল্টায় ইসরায়েল সোয়া এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় যে তাণ্ডব চালায় তা প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিকে পরিণত করেছে ধ্বংসস্তূপে।

যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় গত মাসের মাঝামাঝি দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হয়। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জীবিত প্রায় দুই ডজন জিম্মি মুক্তি দেওয়ার পর হামাস বৃহস্পতিবারই প্রথম মৃত ৪ জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করে।

চুক্তি অনুযায়ী শনিবার তাদের আরও ৬ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা। যার বিনিময়ে ইসরায়েলেরও কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দিতে হবে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে সামনের দিনগুলোতে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা নিয়ে তার নতুন পরিকল্পনা ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স