২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
টিআই তারেক: পিকনিক বা বনভোজন সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। পিকনিকের কথা মনে আসলে সবার মনে আনন্দ বয়ে যায়। কারণ পিকনিক মানুষকে নিয়মিত অধ্যয়ন বা কাজের বাইরে স্বাধীনভাবে ঘোরাঘুরির সুযোগ করে দেয়। তাই পিকনিক সবার কাছে বিশেষ প্রিয়।
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নে টাইট সিডিউল থাকে। তারা রিলাক্স বা রিফ্রেশমেন্টের কম সময় পেয়ে থাকেন। যশোর আদ্-দ্বীন সকিনা উইমেন্স মেডিকেল কলেজের দেশি-বিদেশী এই শিক্ষার্থীরা তাই পিকনিকের সুযোগ পেলে তা হাতছাড়া করতে চান না। তাদের চরম একঘেয়েমি মেডিকেল শিক্ষা জীবনে কিছুটা রিফ্রেশমেন্টের ব্যবস্থা থাকে এই বার্ষিক পিকনিকে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।
২৫ ফেব্রæয়ারি মঙ্গলবার খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাল পোশাক পরে ইচ্ছামত সেজে-গুজে তাদের পিকনিকে যাবার এই প্রস্তুতি।
সকালে যশোর শহরতলীর পুলেরহাটস্থ ক্যাম্পাস থেকে বাস যোগে হাসিখুশি মেজাজে পার্শ্ববর্তি নড়াইল জেলার পিকনিক স্পটে গমন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্টাফরা। নড়াইল শহরের স্বপ্নবিথি এবং নিরিবিলি পিকনিক স্পটে তাদের আগমন।
এখানে মিনি চিড়িয়া খানায় নানা রকম পশু পাখি দর্শন, দোলনায় দোল খাওয়া, ক্যাবল কার রাইড শেয়ার, পার্কে ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবাই। সেলফি তোলা, গ্রæপ ফটো সেশনে বাদ যান না শিক্ষক এবং স্টাফরাও। বিদেশী শিক্ষার্থীদের বোট চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে দেখা যায়। ভারতের ঝাড়খান্ড থেকে আগত মেডিকেল কলেজের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শিফা আবিদ হাসানও তার সুখানুভ‚তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি আমাদের বেশ ভাল লাগে। এখানকার সংস্কৃতি ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মেডিকেল শিক্ষার পরিবেশ যথেষ্ট আকর্ষণীয়। আমরা বাংলাদেশিদের সাথে অধ্যয়ন উপভোগ করি।
এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দেন উচ্চতর পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিও ও ডিজিও কোর্সের শিক্ষার্থীরাও। কয়দিন পরেই এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় বসবেন মেডিকেল কলেজের নবম ব্যাচের এসব শিক্ষার্থী। কিন্তু এই আনন্দ উপভোগ থেকে কিছুতেই বঞ্চিত হতে চান নাই তারা।
৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং কর্মকর্তারাও অংশ নেন এই আয়োজনে। পিকনিক স্পটেই সকালের নাস্তার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া র্যাফেল ড্র’র টিকিট ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় কাউকে। স্পটে নানা রকম পন্য সামগ্রী কিনতে দেখা যায় ছাত্রীদের। নিরিবিলি’র শাহী মশলা পান সবার নজর কাড়ে। শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন জিনিসের নাম লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এই ধরনের নানা আনন্দ আয়োজন সম্পর্কে উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. গোলাম মুক্তাদির বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা ধারের কাছে পিকনিক স্পট হিসেবে নড়াইলে এসেছি। এখানে নানা রকম খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে ভাল একটি সময় অতিবাহিত করবে শিক্ষার্থীরা।