‘ডিসেম্বরের পরে দেশে বিশৃঙ্খলা হলে দায় কার’
১৯ এপ্রিল, ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি নির্বাচন মার্চে দেয় এবং ডিসেম্বরের পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তাহলে এর দায় তাদেরকেই নিতে হবে যারা বলেছিলেন ‘ডিসেম্বরই কাট-অফ টাইম’।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা রাজনীতি করবেন, নির্বাচন চাইবেন- তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু দয়া করে সরকারকে বিতর্কিত করবেন না। যে ভাষায় বলা হচ্ছে ‘ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে বিশৃঙ্খলা হবে’, সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক হুমকি ছাড়া কিছু নয়।
সারোয়ার তুষার বলেন, যদি সরকার নির্বাচন মার্চে দেয় এবং ডিসেম্বরের পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তাহলে এর দায় তাদেরকেই নিতে হবে যারা বলেছিল ‘ডিসেম্বরই কাট-অফ টাইম’। রাজনৈতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে ‘অনির্বাচিত’ বলা বাস্তবতা ও পরিসংখ্যানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই সরকার ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় না এলেও তা জনসমর্থনহীন বা অবৈধ নয়।
তিনি আরও বলেন, অনির্বাচিত সরকার বলতে যা বোঝায়- যেমন ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমান সরকার সেই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে এখনও ৭০ শতাংশের বেশি জনসমর্থন রয়েছে। আর অতীতে নির্বাচনে যারা সংসদে জনসমর্থন পেয়েছে, তাদের ভোটের হার ছিল ৩৫-৩৭ শতাংশের মধ্যে।
সারোয়ার তুষার বলেন, নির্বাচন ছাড়া বর্তমান সরকার এসেছে- এটা সত্যি। কিন্তু দেশের ইতিহাসে নির্বাচিত সরকারগুলোরও ভোটের হার খুব বেশি নয়। সেই তুলনায় এই সরকারের প্রতি জনসমর্থন অনেক বেশি। তাই এটিকে অনির্বাচিত বা অবৈধ সরকার বলা রাজনৈতিক অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
‘টেকশই পর্যটন বিকাশে সরকার কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজমে গুরুত্ব দিচ্ছে’ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম, এথনিক ট্যুরিজম এবং টেকসই পর্যটন বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা চাই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি শুধু প্রদর্শিত হবে না, তা পর্যটনের সম্পদে রূপান্তরিত হবে; কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। আজ শুক্রবার বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শক্তি তার বৈচিত্র্যে। ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর ভিন্নতা আমাদের বিভক্ত করে না; বরং আরও সমৃদ্ধ করে। তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল শুধু চায়ের রাজধানী নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অঞ্চল। এখানে এবং এর আশপাশে প্রায় ২৬টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও জীবনধারা বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ ও বর্ণিল করেছে। মন্ত্রী আরো বলেন, হারমনি ফেস্টিভ্যাল শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য মিলনমেলা। এবারের উৎসবে ১৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করছে, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের একটি অনন্য উপস্থাপনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হারমনি ফেস্টিভ্যাল দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যকে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরবে এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিস ফাহমিদা আখতার’র সভাপতিত্বে অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বহী কর্মকর্তাা (অ.দা.) মো আব্দর রউফ। বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিস কানিজ মোল্লা।