২৬ এপ্রিল, ২০২৫
সাইনাসের যন্ত্রণা অনেক সময় ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে। এতে অনেক সময় মাথা ভারী হয়ে যায়। ফলে ঠিকমতো মাথা তোলা যায় না। প্রথম থেকেই এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। নাহলে রোগীকে অত্যন্ত বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে। তাই সচেতন থাকার চেষ্টা করুন।
দেখা যায় অনেকেই সাইনাসের ব্যথাকে মাইগ্রেন ভেবে নেন। ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য ডেস্ক
২ মিনিটে পড়ুন
সাইনাস কী?
সাইনাস হলো আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নাকের দুই পাশে, আমাদের মুখের যে কিছু হাড় থাকে, এর ভেতরে একধরনের কুঠুরি থাকে। এখানে স্বাভাবিকভাবে বাতাস থাকে। কোনো ইনফেকশন হলে এখানে জমতে পারে কফ। এর থেকেই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এমনকি প্রচণ্ড আকারে মাথাব্যথাও হতে পারে।
দেখা যায় অনেকেই সাইনাসের ব্যথাকে মাইগ্রেন ভেবে নেন। যদিও বিষয়টা একবারেই তেমন নয়। সাইনাস রোগটি ইনফেকশন, অ্যালার্জি থেকে হয়। অপরদিকে মাইগ্রেন হলো স্নায়ুর অসুখ।
সাইনাসের লক্ষণগুলো হলো:
১. খুব মাথাব্যথা
২. মাথা ভার হয়ে যাওয়া
৩. জ্বর আসা
৪. বমি বমি ভাব
৫. ঠান্ডা লাগা
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে একদম অবহেলা নয়। বরং চেষ্টা করুন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার। তবেই রোগ থেকে মিলতে পারে মুক্তি।
সাইনাস থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু ঘরোয়া টিপস
স্টিম নিন
প্রথমে পানি গরম করুন। তা ফুটতে শুরু করলে নামিয়ে নিতে হবে। সেই পানি থেকে বের হতে থাকবে ধোঁয়া। মাথায় একটা কাপড় চাপিয়ে আপনি নাক দিয়ে ধোঁয়া টানুন। এভাবে দিনে ৩-৪ বার করুন।
নাক পরিষ্কার করুন লবণপানিতে
লবণপানি অনেক ইনফেকশন সহজে দূর করে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে নাক লবণপানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই দেখবেন সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। মেডিকেল নিউজ টুডে বলছে, প্রথমে কিছুটা বেকিং সোডা নিন। তা পানিতে মেশান, তার সঙ্গে মিশিয়ে দিন এক চিমটি লবণ। তারপর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর হাতে করে এই পানি তুলুন। নাক দিয়ে পানি টানুন। এভাবে প্রথমে কষ্ট হবে। তারপর ঠিক অভ্যাস হয়ে যাবে। এ উপায়ে সহজেই কমবে ব্যথা।
আদা-চা
আদা-চা নিয়মিত খেতে হবে। এই চা-এ রয়েছে বিশেষ কিছু উপাদান। আদায় অ্যান্টিইফ্লেমেটরি গুণ থাকে। তাই আদা-চা খান। পারলে এই চায়ে মধু মেশাতে পারেন। মধুর ব্যাকটেরিয়ানাশক ক্ষমতা রয়েছে। তাই এই চা পান করলে শরীর সুস্থ থাকবে। সাইনাসের যন্ত্রণাও কমবে।
মাইগ্রেনের ব্যথা-
১. ব্যথা সাধারণত একপাশে বেশি হয় (কখনও দুই পাশেও হতে পারে)।
২. ব্যথা তীব্র হয়।
৩. আলো, শব্দ, গন্ধে সংবেদনশীলতা বাড়ে।
৪. বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
৫. ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে কয়েকদিন পর্যন্ত চলতে পারে।
৬. সাধারণত ব্যথার আগে কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে, যেমন দৃষ্টি ঝাপসা, চোখের সামনে আলো ঝলকানো ইত্যাদি।
জেনে নিন-
যদি মাথাব্যথার সাথে নাক বন্ধ, সর্দি বা চোখের চারপাশে চাপ লাগে, তাহলে সেটা সাইনাস হতে পারে।
যদি মাথার একপাশে তীব্র ব্যথা, আলো-শব্দে সমস্যা ও বমি ভাব হয়, তাহলে সেটা বেশি সম্ভবত মাইগ্রেন।