শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

০৭ মে, ২০২৫

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১১) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৬ মে) সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারসহ স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করে।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। পূর্ব শত্রুতার জেরে ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসাতে চাচ্ছে।

ওই ছাত্রীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের ওই বিদ্যায়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এবং মেয়েটির বাড়ি একই এলাকায়। তিনি ওই মেয়েটিসহ কয়েকজন ছাত্রীকে প্রতিদিন সকালে বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ান।  গতকাল সোমবার সকালে অসুবিধা থাকায় ওই দিন রাত আটটার দিকে বিদ্যালয়ে শিক্ষেকদের কক্ষে তিনি মেয়েটিসহ চারজনকে প্রাইভেট পড়ান। এ সময় ওই মেয়েটি তার ঘুম পেয়েছে বাড়ি যেতে চায় বলে শিক্ষককে জানায়। পরে ওই শিক্ষক তাকে বাড়ি পৌঁছে দিবেন বলে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যান। একপর্যায়ে মেয়েটির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়াসহ ধর্ষণচেষ্টা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে মেয়েটি কাঁন্নাকাটি করে বাড়ি গিয়ে পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানায়। এ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবার আজ সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। সেইসঙ্গে বিদ্যালয়ে গিয়ে বিচার দাবি করে। এতে হট্টগোল শুরু হলে একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলামের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক সাইকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ রকম কোনো কিছুই হয়নি। ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে আমার কিছুটা বিরোধ আছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে তারা আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছেন।

কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওমর কাইউম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ আমি দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল আজম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।