১৫ মে, ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা এবার ১৭টি আবাসিক হলের বাইরে নতুন একটি দশতলা হলের সিট পাচ্ছেন। প্রায় ৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই আবাসিক হলটি চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক এস. এম. ওবায়দুল ইসলাম।
জানা গেছে, হলটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানোর পর, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে হলটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানায়।
এরই মধ্যে পূর্বতন প্রশাসন হলটির নাম নির্ধারণ করেছিল ‘শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হল’ নামে। তবে ‘জুলাই বিপ্লব’-এর পর শিক্ষার্থীদের দাবিতে এটি ‘সাকিব-রায়হান (রাজশাহীর দুই শহীদ) হল’ নামে পরিচিতি পেতে শুরু করে। যদিও এখনো চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
২৪ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই হলটিতে থাকবে ১০ তলা বিশিষ্ট ছয়টি ব্লক, যেখানে প্রায় ১,১০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি কক্ষে থাকছে দুইটি আসন, মোট কক্ষ সংখ্যা ৫৯৮টি।
হলটিতে থাকবে চারটি আধুনিক লিফট, চারটি প্রশস্ত সিঁড়ি, ব্যাকআপ জেনারেটর, ডিপ টিউবওয়েল, বিশালাকৃতির একটি মসজিদ এবং প্রায় ৩০০ আসনবিশিষ্ট একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম। শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় তলায় থাকবে উন্নতমানের লাইব্রেরি, ইনডোর গেমস রুম, জিমনেসিয়াম এবং রিডিং রুম। নিচতলায় থাকবে গ্রিন জোন ও স্থায়ী দোকান।
নিরাপত্তার জন্য পুরো হল থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য থাকবে একটি আইটি কক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক এস. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার ছিল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন। তার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে এই হল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরেই শিক্ষার্থীদের জন্য এটি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর নির্মাণকাজ কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। পরে বর্তমান প্রশাসন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে পুনরায় কাজ শুরু করে। আমরা সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করেছি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ডিসেম্বরেই হলটি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা যাবে।’