০১ জুন, ২০২৫
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহালের বিষয়ে বহুল আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় দিতে যাচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। রোববার (১ জুন) আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন।
এই রায়ের ওপর নির্ভর করছে—জামায়াতে ইসলামী ভোটের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে কি না, দলটির নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ পুনরায় বরাদ্দ হবে কি না, এমনকি দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে কি না।
গত বছর ১ আগস্ট ছাত্র-কোটাবিরোধী আন্দোলনকে জামায়াত-প্রভাবিত বলে উল্লেখ করে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তবে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর জামায়াত প্রকাশ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও এখনো দলটির নির্বাচন কমিশনের তালিকায় কোনো নিবন্ধন নেই।
নিবন্ধন বাতিলের পেছনে হাইকোর্টের ২০১৩ সালের রায় উল্লেখযোগ্য। সে সময় তরিকত ফেডারেশনের নেতাসহ ২৫ জন ব্যক্তি রিট করলে হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধনকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেন। চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সেই রায়ের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে দেয়।
জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহাল করবেন। ২০০৮ সালে ইসি যেভাবে সাময়িক নিবন্ধন দিয়েছিল, সেটি আইন অনুযায়ীই ছিল।
নিবন্ধনের পাশাপাশি দলটির প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফিরিয়ে পাওয়ার বিষয়েও আজ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আইনজীবী শিশির মনির জানান, প্রতীক বাতিলের প্রক্রিয়াও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তার দাবি— এটি ফুলকোর্টের একটি বিশেষ রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা উপযুক্ত প্রক্রিয়া ছিল না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আপিল বিভাগ একটি পর্যবেক্ষণ দেবেন বলে আমরা আশা করি, যাতে নির্বাচন কমিশন যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
নিবন্ধন সংক্রান্ত মামলায় বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের পূর্বের অবস্থান আর নেই। কমিশন জানিয়েছে, তারা আপিল বিভাগের রায়ের অপেক্ষায় আছে।