০৫ জুন, ২০২৫
কক্সবাজারের রামুতে ‘কিং অব বর্ডার’ খ্যাত শাহীনুর রহমান ওরফে শাহীন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের জাউচপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শাহীনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ২০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ডাকাতি, চারটি হত্যা, দুটি অস্ত্র, দুটি মাদক এবং একাধিক সাধারণ ডায়েরি রয়েছে।
এর আগে গত ২৫ মে যৌথবাহিনীর অভিযানে শাহীনের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, মাদকদ্রব্য, জাল টাকা এবং ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, সীমান্ত এলাকায় গরু ও চোরাচালান পণ্যের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল শাহীন ও তার বাহিনী। প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে আসা ৫০০ থেকে ১ হাজার গরু থেকে ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হতো। ইয়াবা, আইস, বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন চোরাচালান পণ্যের করিডোরও ছিল তার নিয়ন্ত্রণে।
রামুর গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে তার ছিল অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য। স্থানীয়দের ভাষায়, এলাকায় আইন নয়, চলত শাহীনের আদেশ। তার অনুমতি ছাড়া কেউ কোনো কাজ করতে পারত না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গরু ও মাদক পাচারে কেউ বাধা দিলে নির্মমভাবে হত্যা করা হতো।
তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৩ মার্চ ইরফান, ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ আবু তালেব এবং ৮ মে আবুল কাশেমকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মো. মাসরুরুল হক বলেন, ডাকাত শাহীনের বিরুদ্ধে প্রায় দুই ডজন মামলা রয়েছে। অবৈধ গরু পাচার, মাদক ব্যবসা, ইয়াবা, জমি দখলসহ প্রায় সব ধরনের অপরাধে সে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।