প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে অনিয়ম

২৩ জুন, ২০২৫

বাংলাদেশে বেসরকারী মেডিকেল কলেজ সমূহের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)। ২০১০ সালে জয়েন্ট স্টক কোম্পানীতে নিবন্ধিত এই প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে চলমান ৬৭ টি বেসরকারী মেডিকেল কলেজের মাঝে ৫৫ টি বিপিএমসিএ-র সদস্য।

বিপিএমসিএ-ও সংঘ বিধির ২৭ ধারা মোতাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির ২০২৫২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনের জন্য ২০২৫ সালে ২৫ মার্চ ৩ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন বোর্ড গঠন করে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। সে মোতাবেক নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ মো: মঈনুল আহসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ, গ্রীন রোড, ঢাকা। নির্বাচন বোর্ডের সদস্যদ্বয় হলেন অধ্যাপক ডাঃ মো: আফিকুর রহমান, উপদেষ্টা, আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ২, বড় মগবাজার, ঢাকা এবং ডাঃ মোস্তফা কামাল, পরিচালক, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ, ৩৩, কেডিএ এভিনিউ (রয়েলের মোড়), খুলনা।

তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন বোর্ড ১৯.০৪.২০২৫ তারিখে (১) বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)-র নির্বাহী কমিটির ২০২৫-২০২৭ মেয়াদে নির্বাচনের ভোটার হওয়ার জন্য কলেজের ব্যবস্থপনা কর্তৃপক্ষের ২ (দুই) জন প্রতিনিধির নাম ও বকেয়া চাঁদা আগামী ১৪/০৫/২০২৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ প্রসঙ্গে, (২) নির্বাচন সংক্রান্ত নোটিশ (২০২৫-২০২৭), ও (৩) বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)-র কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন তফসিল (২০২৫-২০২৭) মেয়াদে শীর্ষক যোগাযোগ করে যেখানে তিন জনারই স্বাক্ষর রয়েছে।

পরবর্তীতে একই স্মারক ও তারিখের স্থলাভিশিক্ত শিরোনামে নির্বাচন সংক্রান্ত নোটিশ (২০২৫-২০২৭) ও নির্বাচন পুন: তফসিল-এর ঘোষনাতে ও তিন জনার স্বাক্ষর রয়েছে। বিপিএমসিএ কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন (২০২৫-২০২৭) নির্বাচন নিয়মাবলীতেও তিন জনার স্বাক্ষর রয়েছে ০৭/০৫/২০২৫ তারিখসহ। ২৮/০৫/২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বিপিএমসিএ কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন (২০২৫-২০২৭) ভোট প্রদানের নিয়মাবলীতে তিন জনার স্বাক্ষর রয়েছে। এছাড়াও ২২.০৫.২০২৫ তারিখে প্রকাশিত প্রাথমিক ভোটার তালিকাও ২৯.০৫.২০২৫ তারিখে প্রকাশিত চুড়ান্ত ভোটার তালিকাতে ও রয়েছে তিন জনার স্বাক্ষর।

ঘোষিত পুন: তফসিল অনুযায়ী ১৫.০৬.২০২৫-এ মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই ও বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে শুধুমাত্র নির্বাচন বোর্ডের সভাপতির স্বাক্ষর রয়েছে। অন্য দুজন সদস্যের নাম থাকলেও তারা সেখানে স্বাক্ষর করেন নি। বিপিএমসিএ-র সংঘ বিধির ২৭ ধারা মোতাবেক নির্বাচন বোর্ড তিন সদস্য বিশিষ্ট। তাই অন্য দুজন সদস্য ব্যতীত সভাপতি এককভাবে নির্বাচন বোর্ডকে প্রতিনিধত্ব করেন না।

১৬.০৬.২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বৈধ মনোনীত প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে শুধুমাত্র সভাপতির স্বাক্ষরে। তবে প্রকাশিত খসড়া প্রার্থী ও বৈধ মনোনীত প্রার্থীর তালিকার মাসে বেশ পার্থক্য রয়েছে।

১. খসড়া প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী সাংগঠনিক সম্পাদক (বিভাগওয়ারী-চট্রগ্রাম বিভাগ) পদে প্রার্থী ১ জন। অথচ বৈধ মনোনীত প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে ২ জন।

২. যুগ্ম সম্পাদক: চারটি পদে খসড়া প্রার্থী তালিকায় প্রার্থী ৭ জন। অথচ বৈধ মনোনীত প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে ৮ জন।

৩. খসড়া প্রার্থী তালিকায় সাংগঠনিক সম্পাদক (বিভাগওয়ারী- রাজশাহী বিভাগ) পদে প্রার্থী ১ জন হলেও বৈধ মনোনীত প্রার্থীর তালিকাতে রয়েছে ২ জন।

৪. নির্বাহী সদস্য তিনটি পদে খসড়া প্রার্থী তালিকায় প্রার্থী ৫ জন হলেও বৈধ মনোনীত প্রার্থীর তালিকাতে সে সংখ্যা ৬ জন।

প্রথম আলোতে ২০ জুন ২০২৫ নির্বাচন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিপিএমসিএ সচিব, নির্বাচন বোর্ড মারফত। অথচ এমন কোন পদ বিপিএমসিএ বা নির্বাচন বোর্ডে নেই।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জুন ২০২৫ তারিখে নির্বাচন বোর্ড মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের সময় ইতিপূর্বে ঘোষিত নির্বাচনী নিয়মাবলীর ৫ নং ধারা অনুযায়ী (জমা দেওয়া মনোনয়ন পত্রে প্রার্থী/প্রস্তাবক/সমর্থনকারীর নামের বানান ভুল, ওভার রাইটিং করা, ইরেজার দিয়ে কোন লেখা মোছার চেষ্টা করা, লেখার কোন কাটাকাটি করলে বা কোন ভুল তথ্য প্রদান করলে মনোনয়ন পত্র বাতিল বলে গন্য হবে) বেশ কিছু মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়ে যায়। যদিও নির্বাচন বোর্ডের ২ জন সদস্য তাদের করা ও ঘোষিত নিয়মাবলীতে অনঢ় থাকতে চান, কিন্তু নির্বাচন বোর্ডের সভাপতি তাতে সম্মতি দেননি। এমন অচলবস্থায় ১৫ জুন ২০২৫-এ প্রকাশিত খসড়া প্রার্থী তালিকায় শুধুমাত্র সভাপতি স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতেও শুধুমাত্র সভাপতির স্বাক্ষরে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, যার সাথে অন্য দুজন সদস্য একমত নন। যেহেতু সংঘ বিধি ২৭ ধারা অনুযায়ী তিন জন মিলেই নির্বাচন বোর্ড, তাই শুধুমাত্র সভাপতির সম্মতিকে নির্বাচন বোর্ডের সিদ্ধান্ত বলা যায় না।

 নির্বাচন বোর্ড কার্যালয়-র স্মারক বিপিএমসিএ/২০২৫/১০/৪৯৮ তারিখ: ২১/০৬/২০২৫ এবং শুধুমাত্র সভাপতির স্বাক্ষরিত ২ টা বৈধ মনোনীত প্রার্থীর চুড়ান্ত তালিকা পাওয়া গেছে। দুইটা তালিকায় রয়েছে পার্থক্য। একটি তালিকাতে আইন বিষয়ক সম্মাদক পদে ডা: মাহফুজা জেসমিনের নাম থাকলেও অন্যটিতে তার পরিবর্তে নাম রয়েছে ডা. মো. এমদাদুল হকের। আরেকটি পার্থক্য হচ্ছে একটি তালিকায় শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যাণ সম্মাদক পদে নাম রয়েছে ডা. মো. এমদাদুল হকের, তবে অন্য তালিকাতে তার পরিবর্তে নাম রয়েছে ডা: মাহফুজা জেসমিনের।

এতসব অনিয়ম সত্ত্বেও আগামী ১৬.০৭.২০২৫ তারিখ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফসিল রয়েছে।