১৪ জুলাই, ২০২৫
চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই পানামা খালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানামা পুলিশের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহড়ার অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় রোববার তিনটি মার্কিন সেনা হেলিকপ্টার— দুটি ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক এবং একটি সিএইচ-৪৭ চিনুক পানামা-প্যাসিফিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। বিমানবন্দরটি আগে মার্কিন হাওয়ার্ড ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
পানামার ন্যাশনাল অ্যারোনাভাল সার্ভিসের (এসইএনএএন) উপকমিশনার মাইকেল পালাসিওস জানান, এই মহড়াগুলো পানামার নিরাপত্তা বাহিনী ও আশপাশের দেশগুলোকে যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুত করবে।
মার্কিন সেনারা গত মাসেও অনুরূপ মহড়া চালিয়েছিল। এটি একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় করা হচ্ছে। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব ঘাঁটি স্থাপন না করেও পানামার বিমান ও নৌঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ চালাতে পারে।
তবে এই চুক্তিটি পানামায় বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এমন এক সময় যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পানামা খাল ফের মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, চীনের প্রভাব পানামা খালে অনেক বেশি, যেখানে দিয়ে মার্কিন কনটেইনার ট্রাফিকের প্রায় ৪০% এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৫% পরিবাহিত হয়।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই খাল কখনই থাকত না, তাই মার্কিন বাণিজ্য ও সামরিক জাহাজগুলোর জন্য এই রুট সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে।
তবে পানামার প্রেসিডেন্ট জোসে রাউল মুলিনো বলেছেন, খালের টোল বা ফি নির্ধারণ করে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান—পানামা খাল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
পানামায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি মূলত একটি সংবেদনশীল ইস্যু। কারণ এটি মনে করিয়ে দেয় সেই সময়ের কথা, যখন (১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর) খালটি পানামার কাছে হস্তান্তরের আগে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ছিল।
এদিকে এসইএনএএন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মহড়া চলবে শুক্রবার পর্যন্ত এবং এটি ‘পানামার জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে’ পরিচালিত হবে।পাশাপাশি, এ ধরণের মহড়া গত ২৩ বছর ধরেই চলছে বলে উল্লেখ করেছেন পালাসিওস।