ইকুয়েডরে বন্দুকধারীদের হামলায় শিশুসহ ১৭ জন নিহত

২৯ জুলাই, ২০২৫

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের গুয়ায়াস প্রদেশে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। দেশটির মাদক ও সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘদিনের সংকটের মধ্যে এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি জানান, রোববার রাতে প্রদেশের এল এমপালমে শহরের ‘লা ক্লিনিকা’ নামক একটি বারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় রাত ৭টার দিকে দুটি পিকআপ গাড়িতে করে আসা অস্ত্রধারীরা পিস্তল ও রাইফেল নিয়ে বারটির ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এরপর পালিয়ে যাওয়ার সময়ও তারা আশপাশে উপস্থিত আরেকটি দলের ওপর গুলি চালায়।

ইকুয়েডরের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। নিহত শিশুটি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক কিলোমিটার দৌড়ে পালাতে গিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে মারা যায়— এমন মর্মান্তিক তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা মেজর অস্কার ভ্যালেন্সিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় বন্দুকধারীরা “অ্যাকটিভ উলভস” বলে চিৎকার করছিল, যা ধারণা করা হচ্ছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের নাম, যারা মাদকপাচারের রুট নিয়ন্ত্রণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ঘটনাস্থল থেকে ৪০টির বেশি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা।

গুয়ায়াস অঞ্চলটি বর্তমানে মাদকচক্রের সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও প্লায়াস শহরের একটি বারে পুল খেলার সময় ৯ জন নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, সেসব হামলায় অনেক সময় নিরীহ নাগরিকরাও শিকার হচ্ছেন।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া গত বছর সাংগঠনিক অপরাধ দমনে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই দেশটিতে সহিংসতা বেড়েই চলেছে।

২০২৪ সালে দেশটিতে প্রতি লাখে হত্যা হার ছিল ৩৮ জন, যা লাতিন আমেরিকার মধ্যে অন্যতম উচ্চ হার। চলতি বছর ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই ৪ হাজার ৫১টি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে, বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ কোকেন পাচার হয় ইকুয়েডর হয়ে, যা দেশটিকে আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে।

এই হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে পুরো দেশে।