১১ আগস্ট, ২০২৫
বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করতে আন্তর্জাতিক লবিংয়ের উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের সংগঠন সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ (সিআই)।
রোববার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই নিন্দা জ্ঞাপন করে।
সিআই এর চেয়ারম্যান কাতারের নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ ও সেক্রেটারি কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক তাইয়িব আহমেদের যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স-এর ব্যারিস্টার স্টিভেন সাচা পাউলস কেসি ও অ্যালেক্স টিন্সলি সম্প্রতি জাতিসংঘের গণতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা প্রচারের স্বাধীন বিশেষজ্ঞের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনটিতে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত আইনগত নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
সিটিজেন ইনিশিয়েটিভের দাবি করে, এই লবিংয়ের উদ্যোগ ইচ্ছাকৃতভাবে আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদি স্বৈরাচারী শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বিষয়গুলো উপেক্ষা করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্বাচন জালিয়াতিতে জড়িত ছিল। অথচ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি আইন সংস্থা সেই দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা গভীর উদ্বেগজনক।
সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ তিনটি দাবিও জানিয়েছে—
১. অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আওয়ামী লীগের আইনি লবিংয়ের অর্থায়নের উৎস তদন্ত করতে হবে।
২. শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় থেকে কীভাবে রাজনৈতিক ও লবিং কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তা ভারত সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করতে হবে।
৩. জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের আওয়ামী লীগের অপরাধ, গণহত্যা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দমন, সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা এবং দুর্নীতির বিষয়গুলো অবহিত করতে হবে।
সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে— তারা যেন ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ায়, অপরাধীদের নয়।
উল্লেখ্য, সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ ২০২৩ সালের ১২ জুলাই থেকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য ক্যাম্পেইন, রাজনৈতিক সততা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।