১১ আগস্ট, ২০২৫
ওটিটি মাধ্যম চরকির সিইও, নির্মাতা রেদওয়ান রনির বিরুদ্ধে পেশাগত হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিডিয়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজের সুযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নির্মাতা শৌভ রহমান রনি। তিনি দাবি করেছেন এক সময় রেদওয়ান রনির সহকারী ছিলেন।
শৌভর দাবি, প্রায় ১৫ বছর ধরে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণ ও কন্টেন্ট নির্মাতা হিসেবে কাজ করছেন। ২০১১ সালে রনির সহকারী থাকার সময় থেকে ব্যক্তিগত বিরাগের শিকার হচ্ছেন তিনি।
এখানেই শেষ না, বর্তমানে চরকির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় রেদওয়ান রনি তার প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে তাকে বঞ্চিত করছেন বলে অভিযোগ তার। রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সম্প্রতি মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন শৌভ।
ওই স্মারকলিপিতে শৌভ বলেন, ‘প্রথমেই স্পষ্ট করে জানাতে চাই প্রথম আলো বা চরকি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। আমার মূল সমস্যা শুরু হয় ২০১১ সালে, যখন আমি রেদওয়ান রনির সহকারী হিসেবে কাজ করতাম। সেই সময় থেকেই তিনি আমার প্রতি একটি সুস্পষ্ট ব্যক্তিগত বিরাগ পোষণ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি চরকিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় সেই প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্টদের প্রভাবিত করে আমার বিরুদ্ধে প্ররোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে, আমি বিভিন্ন প্রকল্প ও কাজ থেকে অব্যাহতভাবে বঞ্চিত হচ্ছি।’
শৌভ জানান, পুরনো ভুল বোঝাবুঝি মেটাতে সম্প্রতি তিনি তার বাবা এবং স্কুলবন্ধু কাজী মাহমুদুল হাসান শুভকে নিয়ে চরকির অফিসে যান। রেদওয়ান রনি আমন্ত্রণ জানালেও অফিসে পৌঁছে তার আচরণে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টা মানসিক চাপে রাখা হয় এবং অশোভন মন্তব্য ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন শৌভ।
স্মারকলিপিতে শৌভ আরও বলেন, ‘রেদওয়ান রনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতির মুখোশে মুড়ে মুজিব কোট পরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, এমনকি ভারতীয় (কলকাতা) মিডিয়া পার্টিতেও ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পূর্ব মুহূর্তে তিনি আচরণে পাল্টে নেন এবং এখন বাস্তবতা হলো- সুযোগসন্ধানী রেদওয়ান রনি নিজের খোলস বদলিয়েছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অবস্থান বদলানো তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একজন স্বাধীন নির্মাতার পেশাগত জীবনকে প্রভাবশালী ব্যক্তি দ্বারা জিম্মি করে রাখার ঘটনা ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং মিডিয়া জগতে ব্যক্তি-ভিত্তিক সিন্ডিকেটের উদাহরণ।’
এ ঘটনায় তিন দফা দাবি জানিয়ে শৌভ রহমান জেলা প্রশাসকের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, পেশাগত মর্যাদা ও কাজের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ এবং মিডিয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদমাধ্যমকে শৌভ জানান, শিগগির এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ও ফেসবুক লাইভে বিস্তারিত জানাবেন। এরপর মামলাও করতে পারেন বলে জানান তিনি।
রেদওয়ান রনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আনুষ্ঠানিকভাবে আমি কোনো অভিযোগ এখনও পাইনি, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিষয়ে যদি আমার কাছে বা আমার প্রতিষ্ঠানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তখন এগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেব। তার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখি, চরকিতে যে কোনো নির্মাতা গল্প জমা দিতে পারেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে কনটেন্ট টিম তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় গল্প নির্বাচন বা বাতিল করে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ক অভিযোগ চরকির অফিসিয়াল মাধ্যমে জানাতে পারেন যে কেউ।।’