২৫ আগস্ট, ২০২৫
প্যারিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনারকে তলব করেছে ফ্রান্স। কারণ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে লেখা এক চিঠিতে কুশনার অভিযোগ করেছেন যে, ইহুদিবিদ্বেষমূলক সহিংসতা রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্যারিস।
রবিবার ( ২৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কুশনারকে সোমবার ইউরোপ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে এবং তার অভিযোগগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ফ্রান্সের ইসরায়েল-বিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেন কুশনার।
তিনি লিখেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ উগ্রপন্থিদের সাহসী করে তোলে, সহিংসতা উসকে দেয় এবং ফ্রান্সে ইহুদি জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। আজকের বিশ্বে ইহুদিবিদ্বেষবিরোধীতা মানেই ইহুদিবিদ্বেষ—এটি একেবারেই স্পষ্ট।
প্যারিস দ্রুত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের জবাব দেয়।
রবিবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ফ্রান্স দৃঢ়ভাবে সাম্প্রতিক এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে। রাষ্ট্রদূতের এসব অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্রান্স ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কুশনারের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের পরিপন্থি। কারণ এটি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এসব মন্তব্য ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আন্তঃআটলান্টিক সম্পর্কের মানকে খাটো করে এবং মিত্রদের মধ্যে যে আস্থা থাকা উচিত, তার পরিপন্থি।
হোয়াইট হাউজ এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সঙ্গে সঙ্গে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, তারা কুশনারের মন্তব্যের পাশে রয়েছে। ‘রাষ্ট্রদূত কুশনার ফ্রান্সে আমাদের সরকারের প্রতিনিধি এবং সে ভূমিকায় তিনি আমাদের জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নিতে চমৎকার কাজ করছেন।’
রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হলো অসন্তোষের একটি আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য বার্তা।
কুশনার একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বাবা। ২০০৫ সালে তিনি কর ফাঁকি এবং সাক্ষী প্রভাবিত করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ক্ষমা পান তিনি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। যদিও তারা ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবু এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়েছে ইসরায়েল এবং তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র।
রাষ্ট্রদূতের এই চিঠি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গত সপ্তাহে ম্যাক্রোঁকে উদ্দেশ্য করে লেখা এক বিবৃতির পরেই আসে। বিবৃতিতে ফ্রান্সের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় দ্রুত নেতানিয়াহুর অভিযোগের পালটা জবাব দেয়। অভিযোগগুলোকে নিকৃষ্ট ও ভ্রান্ত আখ্যা দেয়।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, ইসরায়েল সমর্থকেরা প্রায়ই ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগকে সামনে এনে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে দেশটির নিপীড়ন থেকে মনোযোগ সরাতে এবং এ বিষয়ে বিতর্ককে স্তব্ধ করার চেষ্টা করে।