স্বচ্ছ নীতিতে রাবিতে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশংসিত কর্তৃপক্ষ

২৬ আগস্ট, ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানসম্মত নীতিমালার আলোকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ চলছে। এতে রাবি কর্তৃপক্ষ প্রশংসিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

সোমবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন মজুমদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মনোবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে অনিয়মের অভিযোগ এনে ২৪ আগস্ট (রোববার) সন্ধ্যায় ভিসি ভবনের সামনে কয়েকজন সম্মানিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মত হলো, শিক্ষক নিয়োগে উচ্চমান বজায় রাখতে একটি মানসম্মত নীতিমালা এবং সময়োপযোগী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে, যা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। মনোবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ চলাকালে অনিয়মের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ ও মন্তব্য করাটা দুঃখজনক ও বিভ্রান্তিকর।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগে আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপিত পদের ৩ গুণ সংখ্যক প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচনী বোর্ড সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের সিন্ডিকেট অনুমোদনের পর নিয়োগ প্রদান করা হয়।’

এছাড়া জানানো হয়, ‘নীতিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্নাতক/স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম থেকে সপ্তম স্থান অর্জনকারী প্রার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়। তবে বুয়েটসহ দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলে মেধাক্রম উল্লেখ না থাকায় প্রাথমিকভাবে প্রার্থীদের মেধাক্রমের প্রমাণ না থাকলেও প্রবেশপত্রে শর্তসাপেক্ষে প্রাসঙ্গিক প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।’

রাবি প্রশাসক আরও জানান, ‘মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক প্রার্থীকে অন্যদের মতোই সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি মেধাক্রম সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় তার প্রার্থিতা গ্রহণযোগ্য হয়নি। অভিযোগে উল্লিখিত আরেকজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি মেধাক্রমের কোনো তথ্য উল্লেখ না করেই আবেদন সুপারিশ করে। কিন্তু নির্বাচনী বোর্ডের যাচাই-বাছাইয়ে সেই প্রার্থীও মেধাক্রম সংক্রান্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। ফলে তার প্রার্থিতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পূর্বে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয় স্বার্থে একটি স্বচ্ছ ও মানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং শিক্ষা-গবেষণার স্বার্থে মেধা ও মননের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, শিক্ষক নিয়োগের প্রচলিত কার্যক্রমসহ ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সকলের সহযোগিতা থাকবে।