২৬ আগস্ট, ২০২৫
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও ভেসে এলো মৃত ডলফিন। প্রায় ৭ ফুট লম্বা এ ডলফিনটি ইরাবতী প্রজাতির। ডলফিনটির পুরো শরীরে চামড়া ওঠানো শরীরের বিভিন্ন অংশ পচন ধরেছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে কুয়াকাটা সৈকত থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে স্বপ্নরাজ্য পার্ক-সংলগ্ন এলাকায় ডলফিনটি দেখতে পান কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মী ইউসুফ। পরে তিনি উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) সদস্যদেরকে জানান।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা) সদস্য সামিম রেজা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি আগের তুলনায় এখন ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন নিয়মিত এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থা এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে অনুসন্ধান করুক।
তিনি আরও বলেন, ডলফিন শুধু সমুদ্রের প্রাণী নয়। এটি সমুদ্র পরিবেশের স্বাস্থ্য ও ভারসাম্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ডলফিনের উপস্থিতি সমুদ্রের ইকোসিস্টেমকে সুস্থ রাখে, মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দেয় এবং স্থানীয় পর্যটন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রেও অবদান রাখে।
ওয়ার্ল্ডফিশ-বাংলাদেশ গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, এটি মূলত ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন (Orcaella brevirostris) রক্তাক্ত দাগ থেকে দেখা যায়, নৌযান, মাছ ধরার যন্ত্র ও জেলেদের কার্যক্রমই মৃত্যুর মূল কারণ। নদী ও মোহনার দূষিত পানি যেমন শিল্প বর্জ্য, প্লাস্টিক ও তেল ও হুমকি সৃষ্টি করছে। গবেষকরা স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধির এবং ডলফিন অভয়ারণ্য এলাকায় জাল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে কুয়াকাটার জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, আমরা উপকূলজুড়ে কাজ করছি ডলফিন রক্ষায়। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ৭টি ডলফিনের দেখা মিলেছে এই সমুদ্র সৈকতে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যাতে এই ডলফিনগুলোর মৃত্যুর সঠিক কারণগুলো বের করা হয়।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা খবর পেয়ে। আমাদের টিম পাঠিয়েছি ঘটনাস্থলে গিয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সহযোগিতায় ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করিতেছি। যাতে দুর্গন্ধ ছড়াতে না পারে।