০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম বড় উৎস রেমিট্যান্স। কিন্তু উচ্চ ফি, লুকানো চার্জ ও অস্বচ্ছ এক্সচেঞ্জ রেটের কারণে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের একটি বড় অংশ হারিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান নালা (NALA) জানিয়েছে, ‘শুধু বাংলাদেশেই বছরে প্রায় ১.৪৮ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৬,২০০ কোটি টাকা) অপ্রয়োজনীয় খরচে নষ্ট হচ্ছে।’
২০২৪ সালে বৈশ্বিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০৫ বিলিয়ন ডলার।
এর মধ্যে বিশ্বব্যাপী অপচয় হয়েছে প্রায় ৫৭ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বাংলাদেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৬.৯ বিলিয়ন ডলার। নালার হিসাবে, এর মধ্যে ১.৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ফি ও কম রেটে হারিয়েছে। এ অঙ্ক দেশের বার্ষিক বাজেটের ২.০২৫ শতাংশ এবং জিডিপির ০.৩৩ শতাংশ সমান।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নালা বাংলাদেশের হেড অব গ্রোথ মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের কষ্টার্জিত টাকা যাতে বিনা খরচে, দ্রুত ও নিরাপদে দেশে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে নালা। প্রতিটি লেনদেনে স্বচ্ছতা ও আস্থাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।
তিনি আরো বলেন, প্রবাসীরা কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারকে সহায়তা করেন। তাদের প্রতিটি ডলার দেশের অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করে। তাই রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যেন বাড়তি খরচ বা লুকানো চার্জ না থাকে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ২১টি দেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানো যাচ্ছে এই অ্যাপের মাধ্যমে। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা অ্যাপটির ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে ৫ লাখ ছাড়িয়েছে।
নালা অ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকা পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
নালা জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে বাংলাদেশে ২৪৯টি ব্যাংক ও ২৬টি মোবাইল মানি সার্ভিসে সরাসরি লেনদেন করা যায়। এ ছাড়া তাদের বি টু বি পেমেন্ট প্ল্যাটফরম রফিকী এপিআই আন্তর্জাতিক লেনদেনকে সহজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ওয়াই কম্বিনেটর, এক্সেল ও বিসসিমারের মতো বৈশ্বিক বিনিয়োগ সংস্থার সহায়তা পাচ্ছে।
নালার দাবি, ‘স্বচ্ছতা, গতি ও নিরাপত্তা’—এই তিন মূলনীতি নিয়ে তারা কাজ করছে, যাতে প্রবাসীরা গর্ব করে বলতে পারেন, ‘আমাদের টাকা নিরাপদে, দ্রুত এবং বিনা মূল্যে দেশে পৌঁছাচ্ছে।’