১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেংকোর সরকার ৫২ রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তাদের মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করে লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেডা বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছয়জন লিথুয়ানীয় রয়েছে জানিয়ে নাউসেডা এক্সে লিখেছেন, ‘৫২ বন্দি আজ নিরাপদে বেলারুশ থেকে লিথুয়ানিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। ওয়াশিংটন ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তার জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বেলটার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্ত হওয়া ১৪ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে ছয়জন লিথুয়ানীয়, দুজন লাটভীয়, দুজন পোলিশ, দুজন জার্মান, একজন ফরাসি ও একজন ব্রিটিশ রয়েছেন।
ট্রাম্প লুকাশেংকোর সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে চাপ দিয়েছেন। ১৯৯৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা লুকাশেংকো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তিনি স্বাধীন গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে বিরোধী শক্তিকে দমন করেছেন।
নাউসেডা আরো বন্দি মুক্তির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বেলারুশের কারাগারে এখনো এক হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন এবং তারা স্বাধীনতা না দেখা পর্যন্ত আমরা থামব না!’
এদিকে এমন এক সময় এ ঘটনা ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বেলারুশে সফরকালে জানান, ওয়াশিংটন দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বেলাভিয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ট্রাম্পের উপদেষ্টা জন কোল লুকাশেংকোর সঙ্গে বৈঠকে বলেন, ‘বর্তমানে আমরা বেলাভিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিচ্ছি। প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) তিনবার এটি করতে বলেছেন। তাই আমাদের সব প্রশাসনিক জটিলতা মোকাবেলা করতে হয়নি।
এটি স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ট্রেজারি ও কমার্স ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।’
এক সংবাদ সম্মেলনে নাউসেডা বলেন, মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ‘বিরোধী নেতা, সাংবাদিক ও প্রতিবাদ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা’ রয়েছেন। তিনি মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেননি। শুধু লিথুয়ানীয় নাগরিক এলেনা রামানাউস্কিয়েনের কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি গত বছর গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কারাগারে ছিলেন।
এর আগে জুনে বেলারুশে আরো ১৪ রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি পেয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন নির্বাসিত বিরোধী নেতা স্বেতলানা টিখানোভস্কায়ার স্বামী সারগেই টিখানোভস্কি।