১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময় সিনেট ভবন প্রাঙ্গন ‘খুনি হাসিনার বিচার চাই’, ‘শাহবাগের বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান ফল ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা এসব স্লোগান দেন।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময়ও ঢাবির সিনেট ভবনে একই ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়েছিল।
৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এই জাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে জয় পেয়েছে। জোটটি সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)সহ মোট ২০টি পদে বিজয়ী হয়েছে।
এ ছাড়া সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলনের প্রার্থী আবদুর রশিদ (জিতু)। তিনি ৩ হাজার ৩৩৪ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্রার্থী আরিফ উল্লাহ পান ২ হাজার ৩৯২ ভোট। বাগছাস–সমর্থিত প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল পান ১ হাজার ২১১ ভোট। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের শেখ সাদী হাসান নির্বাচন বর্জনের পরও ৬৪৮ ভোট পান।
জিএস পদে ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের মো. মাজহারুল ইসলাম ৩ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পান ১ হাজার ২৩৮ ভোট।
এজিএস (পুরুষ) পদে ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান ২ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের জিয়া উদ্দিন পান ২ হাজার ১৪ ভোট।
এজিএস (নারী) পদে জয় পেয়েছেন একই জোটের আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা। তিনি ৩ হাজার ৪০২ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের মালিহা নামলাহ পান ১ হাজার ৮৩৬ ভোট, আর ছাত্রদলের আঞ্জুমান আরা ইকরা পান ৭৬৪ ভোট।
টানা ৪৪ ঘণ্টা গণনার পর শনিবার সন্ধ্যায় ফল ঘোষণা শেষে পুরো সিনেট ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্লোগানও ছড়িয়ে পড়ে।