২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় পোলট্রি হ্যাচারি মালিকরা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। অতিরিক্ত উৎপাদন, বাজারে চাহিদার ঘাটতি ও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে এক দিনের মুরগির ছানা বিক্রি করেও লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে প্যারেন্ট স্টক বিক্রি করে দিচ্ছেন, কেউ কেউ বন্ধ করে দিচ্ছেন হ্যাচারি। উদ্যোক্তারা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ধসে পড়বে পুরো পোলট্রি খাত।
স্থানীয় হ্যাচারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে সাদা ব্রয়লার জাতের এক দিনের ছানা উৎপাদনে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪৫ টাকা, রঙিন ব্রয়লারে ৩৮ টাকা এবং সোনালী জাতের ছানায় প্রায় ১৮ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে এই ছানাগুলো বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২, ১০ ও ৫ টাকায়। অনেক ক্ষেত্রে সোনালী জাতের ছানা বিক্রি তো দূরের কথা, অনেক খামারি বিনামূল্যে নিতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
মেসার্স শাকিলা পোলট্রি ফার্ম ও হ্যাচারির ম্যানেজার মোফাজ্জল হোসেন মাহিন বলেন, আমরা মূলত সোনালী জাতের বাচ্চা উৎপাদন করি।
প্রতি বাচ্চা উৎপাদনে ১৮ টাকা খরচ হলেও এখন ৪ থেকে ৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতিটি বাচ্চায় আমাদের ১৩ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। এমনকি বিনামূল্যেও বিতরণ করছি, কিন্তু অনেক সময় তাতেও কেউ নিচ্ছেন না।
পদ্মা ফিড অ্যান্ড চিকেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল হক জানান, গত এক মাস ধরে প্রতিটি বাচ্চায় জাতভেদে ১৩ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।
মিডিয়ার উচিত এখন এই সংকট গণমাধ্যমে তুলে ধরা। যখন মুরগির দাম বাড়ে, তখন বড় বড় নিউজ হয়। কিন্তু দাম পড়ে গিয়ে হাজারো হ্যাচারি যখন ধ্বংসের পথে, তখন তেমন কোনো সাড়া নেই।
জয়পুরহাট জেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানেই উদ্ভাবিত হয়েছে স্বাদেভরা দেশীয় মুরগির মতো সোনালী জাতের ব্রয়লার। জেলার ৫৩টি সচল হ্যাচারিতে বছরে প্রায় ৮ কোটি বাচ্চা উৎপাদিত হয়, যার বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
তবে সম্প্রতি অতিরিক্ত গরম, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে মুরগির মাংসের কম দামে বিক্রি হওয়ায় খামারিরা নতুন খামার শুরু করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে বাচ্চার চাহিদা কমে গেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হ্যাচারিগুলোর ওপর।
কালাই উপজেলার দুই প্রান্তিক খামারি আবুল কাশেম ও মোজাহার হোসেন জানান, একসময় সোনালী মুরগি পালন করে উৎপাদনে বিপ্লব হয়েছিল। কিন্তু এখন খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য খরচ এতো বেড়ে গেছে যে খামার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছি।
কালাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান জানান, হ্যাচারি মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন এটা সত্য। তবে আমাদের দপ্তর থেকে নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে হ্যাচারি মালিকরা একেবারে ভেঙে না পড়েন। আমরা খামারিদের পুনরায় উৎসাহিত করার জন্য প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও তথ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।
জয়পুরহাটের পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত উৎপাদন, অতিরিক্ত গরমে মৃত্যুহার বৃদ্ধি, খাদ্য ও ওষুধের উচ্চ মূল্য এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণেই খাতটি এখন ভয়াবহ লোকসানের মুখে। সেজন্য খামারিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। পরিকল্পিত উৎপাদন ও সরকারি সহযোগিতা ছাড়া এই খাত টিকে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
জয়পুরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দিন জানান, জেলায় বছরে প্রায় ৮ কোটি বাচ্চা উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে বর্তমানে বাজারে সাময়িক মন্দা