২৯ অক্টোবর, ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান, হামলা ও হয়রানির ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। এসব সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবিগুলো তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।
সম্মেলনে তারা বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মব ভায়োলেন্স বা সন্ত্রাসী আচরণ বরদাশত করা হবে না।
একই সঙ্গে আহত, ক্ষতিগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের ক্ষতিপূরণ এবং বাজেয়াপ্ত মালামাল ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। সংগঠনের নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে—দোষ প্রমাণিত হলে কেউ ডাকসু সদস্য হলেও তাকে বিচারের আওতায় আনতেই হবে।
সংগঠনটির ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ভাসমান দোকানদার, রিকশাচালক ও শিক্ষার্থী আবির হাসানের ওপর হামলার সুবিচার নিশ্চিত করা; উচ্ছেদের আগে ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের পুনর্বাসন ও বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে হোটেল ব্যবসার অনুমোদন যাচাই করা; শাহবাগ-নিউমার্কেট-লালবাগ এলাকাজুড়ে প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত মাদক সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দেওয়া; শিক্ষার্থীবান্ধব ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চার্টার’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, মিথ্যাচার-অনলাইন আক্রমণ বন্ধ করা এবং প্রশাসনের ফোন চেকসহ অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি প্রমাণ ছাড়া কাউকে ‘মাদকসেবী’ হিসেবে অপপ্রচার বন্ধের দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, কিছু ডাকসু প্রতিনিধির অপপ্রচার শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে এসব ফ্যাসিবাদী আচরণ চিহ্নিত করে প্রত্যাখ্যান করছে। ক্যাম্পাসে শান্তি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ এখন অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তারা।