পেয়ারাবুনিয়া সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত বিজিবি সদস্যের মৃত্যু

০১ নভেম্বর, ২০২৫

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর সাহসী সদস্য নায়েক মোঃ আক্তার হোসেন শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে সিএমএইচ, ঢাকা-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নায়েক আক্তার হোসেন কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রেজুআমতলী বিওপি-তে অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওইদিন সকালে পেয়ারাবুনিয়া সীমান্ত এলাকায় টহলরত অবস্থায় হঠাৎ মাইন বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত সিএমএইচ, রামু সেনানিবাসে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরদিন বিজিবির হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচ, ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শুক্রবার সকালে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে উপস্থিত চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাদাত বিন সিরাজের (ইনটেনসিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞ) তত্ত্বাবধানে ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দেওয়া হলেও তাঁর হৃদস্পন্দন ফিরে আসেনি। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নায়েক আক্তার হোসেনের মৃত্যুতে পুরো বাহিনীতে গভীর শোক নেমে এসেছে। কর্তৃপক্ষ তাঁকে শহীদের মর্যাদা প্রদান করেছে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম (পিএসসি) বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা এক সাহসী সহযোদ্ধাকে হারালাম। নায়েক আক্তার হোসেনের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ নায়েক আক্তার হোসেন দেশের জন্য আত্মোৎসর্গের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমরা তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রয়াত নায়েক আক্তার হোসেনের মরদেহ পরবর্তীতে নিজ জেলা ভোলার দৌলতখানে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হবে।