কালীগঞ্জে বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেল শত শত প্রাণ

০৩ নভেম্বর, ২০২৫

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেল শত শত প্রাণ। রবিবার (২ নভেম্বর) দিনগত রাত প্রায় সাড়ে ১২টা। সে সময় চিলাহাটি থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল রকেট ট্রেন। যে ট্রেনটি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের দুই নাম্বার প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানোর কথা ছিল।

কিন্তু স্টেশন মাস্টারের সিগনাল অমান্য করে মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি না দাঁড়িয়ে চলে যায়। এ সময় অপরদিক খুলনা থেকে চিলাহাটির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল সীমান্ত এক্সপ্রেস। 

কিন্তু সিগনাল না মেনে রকেট ট্রেনটি স্টেশন অতিক্রম করার কারণে স্টেশন মাস্টার পড়ে যান মহাবিপদে। কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে স্টেশন মাস্টার বারোবাজার রেলওয়ে স্টেশনে ফোন করে সীমান্ত এক্সপ্রেসটি দাঁড় করান।

এ সময় মাঝপথ থেকে রকেট মেলটি ব্যাক করে আনা হয়। 

সীমান্ত ট্রেনটি বারোবাজার রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড় করাতে না পারলে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে শত শত মানুষের প্রাণহানীর আশঙ্কা ছিল। পরে অবশ্য মোবারকগঞ্জ রেল স্টেশনে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি ক্রসিং করে।

এ সময় মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমান যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ট্রেনের ড্রাইভার এবং গার্ডরা হয়তো ঘুমিয়ে ছিল।

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ট্রেন চালানোর কারণে সিগন্যাল অমান্য করে স্টেশন থেকে বের হয়ে গেছেন। যার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল। এ ভুলের দায়ভার কে নেবেন? 

এ ব্যাপারে মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার রুহুল আমিন বলেন, আমি তো স্টেশনের দুই নাম্বার প্লাটফর্মে ট্রেনটি দাঁড়ানোর জন্য সিগন্যাল দিয়েছি। কিন্তু সিগন্যাল অতিক্রম করে রকেট মেলের ড্রাইভার স্টেশন ত্যাগ করে চলে যান। এখানে আমার কি করার আছে? আমি বিষয়টি রেলের কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি।

রকেট মেলের ড্রাইভার সিগন্যাল অতিক্রম করে কেন স্টেশন ত্যাগ করলেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি তার কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি। এমনকি তিনি তার নামও বলতে চাননি।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) ফরিদ আহমেদ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।