১৮ নভেম্বর, ২০২৫
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের যতটুকু সহযোগিতা করেছিল, পরবর্তী সময়ে লুটতরাজ করে বিনিময় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত দেড় বছরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা কারও ওপর ব্যক্তিগত কোনো প্রতিশোধ নেয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর মিরপুরে প্রীতি সমাবেশে যোগ দিয়ে এ দাবি করেন তিনি।
আমিরে জামায়াত বলেন, ফ্যাসিবাদী ১৭ বছরে বিপরীত মতের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। হাসিনা সরকার দেশকে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। অভ্যুত্থান দমনে আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী নিপীড়ন দেখে সাধারণ জনগণ ঘরে বসে থাকতে পারেনি। রাস্তায় গুলি করে মন ভরেনি আকাশ থেকেও গুলি করে মানুষ মেরেছে ফ্যাসিস্ট সরকার।
জামায়াতের নেতাকর্মীরা গত দেড় বছরে কারও ওপর ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেয়নি, দাবি করেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দায়িত্বজ্ঞানহীন সংগঠন হলেও জামায়াত বিবেক দিয়ে দেশ পাহারা দিয়েছে। দেশের মানুষের প্রতি আমাদের দায় এবং দরদ রয়েছে। তাই কারও প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়নি জামায়াত।’
শেখ হাসিনার বিচার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার রায়ে স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা সাময়িক স্বস্তি পাবে। বিচারবিভাগের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা রায় কার্যকর করুন- দেশবাসী পাশে থাকবে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশকে ভালোবাসলে আইনের হাতে সোপর্দ করুন।’
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৈতিকতার ভিত্তির ওপর বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হবে। আমরা চাই না আমাদের একটি সন্তানও বিপথগামী হোক। আমাদের মূল কর্মসূচি পিছিয়ে পড়া মানুষদের সামনে এগিয়ে নেওয়া।
দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা না পর্যন্ত আমরা থামব না জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বরেন, ‘দেশের সব সম্পদশালীর সম্পদ পাহারা দেবে জামায়াত। সব ধরনের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা বদ্ধপরিকর। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে জামায়াত।’
‘সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়লেও কারও প্রভুত্ব মানবেন না। নারীরা সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকে অগ্রাধিকার দেবে জামায়াত’, বলেন জামায়াত আমির।