ইমরান খানের ৩ বোন আটক

১৯ নভেম্বর, ২০২৫

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের বাইরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ইমরান খানের তিন বোনকে লাঞ্ছিত করে তাদের আটক করেছে। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ না পেয়ে তারা জেলগেটে অবস্থান নিলে এ ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) অভিযোগ করেছে, জেল প্রশাসন আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে পারিবারিক সাক্ষাৎ করতে দেননি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে পিটিআই নেতারা ও কর্মীরা জেলগেটে বিক্ষোভ ও পরে সিট-ইন করেন।

মঙ্গলবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে পিটিআই জানায়, আলীমা খান, নুরীন নিয়াজি ও ড. উজমা খান শান্তিপূর্ণভাবে বসে থাকার সময় পুলিশ হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালায়। পোস্টে আরও বলা হয়, খাইবার পাখতুনখোয়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মীনা খান আফ্রিদি, এমএনএ শাহিদ খাটকসহ কয়েকজন নারী কর্মীকেও টেনে-হিঁচড়ে আটক করা হয়।

পিটিআইয়ের ভাষ্য, যা হওয়া উচিত ছিল নিয়মিত পারিবারিক সাক্ষাৎ—তা এখন ইমরান খানের পরিবারের ওপর নিপীড়ন ও ভয় দেখানোর অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

দলটির শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, এক পর্যায়ে নুরীন নিয়াজি দৃশ্যত অস্থির হয়ে পড়েন। আলীমা অভিযোগ করেন, মহিলা পুলিশ সদস্যরা তাকে রাস্তায় টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তার হাত কাঁপছিল।

আরেক ভিডিওতে নুরীন বলেন, নারী পুলিশ তার চুল ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। ‘আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই বসে ছিলাম।’

আলীমার দাবি, ঘটনাচক্রে তারা দেখে ফেলায় নুরীনকে আরও বড় আঘাত থেকে রক্ষা করা গেছে। তিনি বলেন, যেভাবে আমাদের চাদর টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, যেভাবে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এটি লজ্জাজনক। তবে এতে আমরা ভয় পাব না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের সাক্ষাৎ বাতিল করা হয়েছে এই অজুহাতে যে ‘আসিম মুনিরের নোটিফিকেশন এখনো সই হয়নি।’

আরেক বিবৃতিতে পিটিআই অভিযোগ করে, ইমরান খানের পরিবার ও আইনজীবীরা দুপুরে সাক্ষাৎ করতে গেলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং রাত ১০টায় পাঞ্জাব সরকার ‘অমানবিক ও অগণতান্ত্রিক’ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়। দলের দাবি, তারা ১২ ঘণ্টা চরম মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন।