‘বাজবলের অজুহাত আরেকবার শুনলে টিভিতে কিছু একটা ছুড়ে মারব আমি’

২৭ নভেম্বর, ২০২৫

অ্যাশেজের এবারের আসরে হার দিয়ে নয়, বলতে গেলে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয়েছে ধ্বংসাত্মকভাবে। আর এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ইয়ান বোথাম। পার্থে দুই দিনের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুঁড়িয়ে গিয়ে ইংল্যান্ডের এমন হার দেখতে দেখতে তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।

ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ দর্শন শুরুর দিকে যতটা উত্তেজনাপূর্ণ মনে হয়েছিল, এখন ততটাই বিপদ ডেকে আনছে। ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি, আর এখন অ্যাশেজ ওপেনারেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে গেছে বেন স্টোকসের দল।

পার্থে বিপর্যয়ের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে একেবারে অসহায় মনে হয়েছে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ব্যর্থ হয়েছে শুরুর ঝড় থামার আগেই। এমন পরিস্থিতিতে বোথামের শঙ্কা- এভাবে চলতে থাকলে ৫ ম্যাচের সিরিজটা ৫–০ হোয়াইটওয়াশেও গিয়ে থামতে পারে।

পিএ নিউজ এজেন্সিকে বোথাম বলেন, “পার্থ ছিল ভয়াবহ। এর অন্য কোনো বর্ণনা নেই। ইংল্যান্ডকে এখনই জ্বলে উঠতে হবে। ‘এইভাবেই আমরা খেলি’- এই কথাটা আর শুনতে চাই না। আর একবার শুনলে টিভিতে কিছু ছুঁড়ে মারব আমি। যদি এটাই তোমাদের খেলার ধরন হয়, তাহলে এখনই ঘরে ফিরে যাও, কারণ সামনে ৫–০ আসছে।” তিনি সবচেয়ে বেশি হতাশ দলের অনড় মনোভাব দেখে। একই ভুল, একই তাড়াহুড়ো, পরিস্থিতি অনুযায়ী টেম্পো কমানোর কোনো চেষ্টা নেই। বোথামের ভাষায়, খেলোয়াড়দের দায়িত্বশীলতা, লড়াইয়ের মানসিকতা ও পরিস্থিতির প্রতি সম্মান অনেক বেশি দেখাতে হবে। তিনি বলেন, “ওরা হয়তো আমার কথা ভালোভাবে নেবে না। কিন্তু মাথায় ঢোকাতে হবে যে ইংল্যান্ড জার্সি গায়ে দেওয়ার মানে গর্ব। সেটার প্রমাণ চাই।”

এই অ্যাশেজ সিরিজে বিশেষ চাপের মুখে আছেন জো রুট ও বেন স্টোকস- এমনটাই মনে করছেন বোথাম। দুজনই বিশ্বমানের খেলোয়াড়, দেশে দারুণ রেকর্ড আছে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের ‘গ্রেট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কাজটা এখনও ঠিকভাবে হয়নি। ১২ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় নিজের অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছিলেন স্টোকস। রুট এখনো অজিদের মাটিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির অপেক্ষায়। এ সিরিজই তাদের সামনে বড় সুযোগ।

বোথামের ভাষায়, “মানুষ মনে রাখে তুমি অস্ট্রেলিয়ায় কী করেছো। জো আর বেন- দুজনেই বিশ্বমানের। জোর ৩৯টা সেঞ্চুরি আছে! কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় প্রভাব রাখতে হলে জিততে হবে। তাদের মাথার ওপরের চাপটা ঝেড়ে ফেলা দরকার।” দলে নতুনদের সুযোগ মিললেও, বোথামের মতে সিরিজে দলকে পথ দেখাতে হবে স্টোকস ও রুটকেই। তাদের পারফরম্যান্সই ইংল্যান্ডকে বাঁচাতে পারে, এবং তাদের ক্রিকেট উত্তরাধিকারকেও আরও উজ্জ্বল করতে পারে।

শেষে বোথাম বলেন, “দুজনই এই সাফল্যটার জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত, কারণ বাকিদের সামনে ভবিষ্যতে আরও সুযোগ আসবে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- অস্ট্রেলিয়ায় জেতার অনুভূতি অসাধারণ, সেটা আপনাকে প্রাপ্য সম্মান এনে দেয়। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর প্রতিটা দিনই দারুণ- এটাই ইংল্যান্ডকে অনুপ্রাণিত করা উচিত।”