২৮ নভেম্বর, ২০২৫
বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশান থানায় জাতীয় তিন নারী শুটারকে হুমকি ও যৌন হয়রানির অভিযোগে এ জিডি করা হয়।
জিডিতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় শুটিং দলের কোচ শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করা হয়েছে।
জিডিটি করেছেন হয়রানির অভিযোগ তোলা তিন নারী শুটারের একজন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জিডি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে জিডিতে উল্লেখ করা অভিযোগ তদন্ত করে দেখবে পুলিশ।
নারী শুটার জিডিতে বলেন, তারা তিনজনই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক পাওয়া শুটার।
জি এম হায়দার সাজ্জাদ তাদের ওপর মানসিক নির্যাতন করেছেন। গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে সাজ্জাদ তাকে অফিসে ডেকে ৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মানসিক নিপীড়ন করেন এবং অপমানজনক কথা বলেন। একজন নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে এটি তার মানসিক কষ্টের কারণ হয়েছে। এতে তার প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
জিডিতে ওই নারী শুটার আরো অভিযোগ করেন, দলের বর্তমান কোচ শারমিন আক্তার তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। দুই কর্মকর্তার আচরণে তিনি আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি ও আরেক নারী শুটারকে শুটিং ফেডারেশনের ভেতরেই ধর্ষণের হুমকি দেন সাজ্জাদ। ৯ নভেম্বর তারা এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য দেন। এরপর সাজ্জাদ হুমকি দিয়ে তাকে সমঝোতা করতে বলছেন।
সমঝোতা না করলে তাদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি ও তার দুই সহকর্মী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার রাতে জি এম হায়দার সাজ্জাদ বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। আর তিন নারী শুটারের মধ্যে একজন শুটিং ফেডারেশনের সদস্য নন। তিনি চেয়েছিলেন, ঘটনার তদন্ত হোক। সে কারণে শুটিং ফেডারেশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।