২৮ নভেম্বর, ২০২৫
বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো ডার্ক ম্যাটার বা অদৃশ্য পদার্থের সরাসরি চিহ্ন পাওয়ার দাবি করেছেন। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ফেরমি গামা-রে টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ইঙ্গিত মিলেছে। জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তোমোনোরি তোটানির নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এই তথ্য জানিয়েছে।
ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্য। এটি আলো নির্গত করে না, আলো শোষণ বা প্রতিফলনও করে না। তাই চোখে দেখা যায় না। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ৮৫ শতাংশই এই অদৃশ্য পদার্থ। তার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় শুধু মহাকর্ষের প্রভাবে।
গবেষক দল মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের ফেরমি টেলিস্কোপের ডেটা পরীক্ষা করে ২০ গিগা ইলেকট্রনভোল্ট শক্তির গামা রশ্মির একটি বৃত্তাকার আভা শনাক্ত করেন। এই অস্বাভাবিক রশ্মি ঠিক সেই ধরনের সংকেতের মতো যা ওয়িম্প (weakly interacting massive particle—এক ধরনের অনুমানিক ডার্ক ম্যাটার কণা) থেকে আসতে পারে।
ধারণা করা হয়, দুটি WIMP কণা একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ করলে তারা ধ্বংস হয় এবং সেই সময় শক্তিশালী গামা রশ্মি তৈরি হয়।
অধ্যাপক তোটানি বলেন, এই গামা রশ্মির বণ্টন ডার্ক ম্যাটারের অবস্থান–সংকেতের সঙ্গে খুব মিল। পরিচিত কোনো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস দিয়ে এই রশ্মির সহজ ব্যাখ্যাও পাওয়া যাচ্ছে না।
যদি এই ফল নিশ্চিত হয়, তবে এটিই হবে ডার্ক ম্যাটারের প্রথম দৃশ্যমান প্রমাণ। চোখে নয়, বরং এর শক্তির ছাপ ধরে। একই সঙ্গে এটি বর্তমান পদার্থবিজ্ঞানের প্রচলিত ‘স্ট্যান্ডার্ড মডেল’-এর বাইরে নতুন ধরনের কণার অস্তিত্বের দিকেও ইঙ্গিত দেবে।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক। তারা বলছেন, আরও তথ্য, আরও যাচাই প্রয়োজন। আপাতত ডার্ক ম্যাটার আংশিক রহস্যমুক্ত হলেও পুরো সত্য এখনও অন্ধকারেই রয়ে গেছে।