সৌন্দর্যের ঈর্ষায় ২ বছরে তিন মেয়েশিশু হত্যা, দেখে ফেলায় রক্ষা পায়নি নিজ ছেলেও

০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

ভারতের হরিয়ানার পানিপথের একটি গ্রামে বিয়ে বাড়িতে ৬ বছর বয়সী বিধি নামের এক শিশুকে চুবিয়ে মারার ঘটনায় এক নৃশংস হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ৪ শিশুকে হত্যার দায়ে পুনম নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার পেছনের কারণটি ভয়ংকর। অভিযুক্ত নারী চাননি কেউ তার চেয়ে ‘বেশি সুন্দর’ হোক।

গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) সবশেষ শিশু বিধি হত্যার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পুনম তার ফুফু বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত পুনম তার ভাতিজি বিধিসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আসেন। সেখানে ভাতিজিকে দেখে পুনমের মনে হয়, সে তার চেয়েও বেশি সুন্দরী।

এরপর পুনম তাকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেন।

বিধি তার দাদু পাল সিং, দাদি ওমবতী, বাবা সন্দীপ, মা ও ১০ মাসের ছোট ভাইকে নিয়ে পানিপথের ইজরানা এলাকার নৌলথা গ্রামে এক আত্মীয়ের বিয়েতে এসেছিল। গত সোমবার বেলা ১টা ৩০ মিনিটের দিকে বরযাত্রী নৌলথায় পৌঁছালে তার পরিবারও সেখানে যায়। কিছুক্ষণ পরে সন্দীপের ফোনে খবর আসে, বিধি হারিয়ে গেছে।

পরিবার তখনই খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

প্রায় ১ ঘণ্টা পর দাদি ওমবতী বাড়ির প্রথম তলার একটি স্টোররুমে যান। দরজাটি বাইরে থেকে আটকানো ছিল। দরজা খুলে তিনি দেখেন, পানিভর্তি একটি চৌবাচ্চায় শিশুটির মাথা ডোবানো। বিধিকে দ্রুত স্থানীয় এনসি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে সন্দীপ থানায় গিয়ে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, শিশু বিধির হত্যার পেছনে ছিলেন তার ফুফু পুনম। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর উঠে আসে ভয়ংকর তথ্য। তিনি আগে আরো তিনটি শিশুকে একইভাবে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন।

পুলিশ বলছে, পুনমের হত্যার ধরন একই—প্রতিবার পানিভর্তি চৌবাচ্চায় শিশুকে ডুবিয়ে মারা। কারণ, সুন্দর শিশুদের প্রতি তার তীব্র ঈর্ষা, বিশেষ করে, ছোট ও সাজগোজ করা মেয়েদের প্রতি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পুনম ২০২৩ সালে প্রথম তার ননদের মেয়েকে হত্যা করেন। ওই ঘটনা দেখে ফেলায় একই বছর তিনি নিজের ছেলেকেও হত্যা করেন। চলতি বছরের আগস্টে তিনি সিওয়া গ্রামে আরো একটি মেয়েকে ‘নিজের চেয়ে সুন্দর’ মনে হওয়ায় হত্যা করেন।

বিধির হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুনম সত্য স্বীকার করার আগপর্যন্ত এই শিশুদের মৃত্যুগুলো দুর্ঘটনাজনিত বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল।