ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, তদন্তে কমিটি

০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সার বিতরণকে কেন্দ্র করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকতার হোসেনকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর উপজেলার উমরাডাঙ্গী বাজারে মল্লিক ট্রেডার্সের প্রতিনিধি মোজাম্মেল হোসেন কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করছিলেন। এ সময় তিনটি ভ্যানে করে ৫ কৃষকের কাছে ৩৩ বস্তা সার সরবরাহ হতে দেখেন অন্য কৃষকরা।

এতে অসন্তুষ্ট হয়ে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকতার হোসেন দুপুরের খাবারের কথা বলে সেখান থেকে চলে আসেন।

পরে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তার ডাকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম ও আকতার হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারাও সেখানে যান।

এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা আকতার হোসেনকে মারধর করেন। কিল-ঘুসি ও লাথির পাশাপাশি ইটের আঘাতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং মুখে আঘাত লেগে একটি দাঁত ভেঙে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কর্মকর্তার অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনার পর মামলা হয়েছে এবং জেলা কৃষি অফিস তদন্ত কমিটি করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শষ্য) আলমগীর কবির জানান, তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান এবং রাণীশংকৈল অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সাবের আলম।

দুই কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

রাণীশংকৈল থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, আকতার হোসেন বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০–১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তদন্তের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।