১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে খাগুড়িয়া কালিমাতা মন্দিরে প্রতিবছর অগ্রহায়ণের শেষ শনিবার প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কালিমাতা উৎসব পালিত হয়। ভারতসহ দেশ-বিদেশ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা এসে দিনব্যাপী নানা পূজার্চনা ও আয়োজনে অংশ নেন।
এই উৎসবে মা কালীর পূজা, মন্ত্র পাঠ এবং আগত ভক্তদের সমাগম ঘটে, যা এই ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মন্দিরকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম তীর্থস্থান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বার্ষিক উৎসব উপলক্ষে প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক মিলন মেলায়।
মন্দির পরিচালনা পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসন আমলের এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি যুধিষ্ঠি মন্ডল এ মন্দির প্রতিষ্ঠিত করেন। সে সময় জেলেরা নদী থেকে মাছ শিকার করতে গিয়ে দুটি পুরাতন মূর্তি পায়। পরে মূর্তি দুটি নিয়ে খাগুড়িয়া এলাকায় পাটের শলা দিয়ে মন্দির নির্মাণ করে সেখানে রেখেই তারা পূর্জা অর্চনা শুরু করে। এর পর দেশ বিভক্ত হলে পাকিস্তান আমলের প্রথম দিকে চিকিৎসক রামকমল পণ্ডিত আবারও মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন।
তখন থেকেই ভারতসহ দেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তরা এ উৎসবে অংশ নেন।
আয়োজক কমিটির সভাপতি রমেশ সুত্রধর বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যস্থান হিসাবে পরিচিত পুণ্যতীর্থ সরিষাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত শ্রী-শ্রী খাগুড়িয়া কালীমাতা উৎসব। পুণ্যস্নান, আর শ্রী শ্রী মায়ের মঙ্গল আরতির মধ্যদিয়ে শুরু হয় এ উৎসব। এরপর অঞ্জলি প্রদান, ভোগ আরতি, মায়ের মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্যদিয়ে শেষ হয় এবারের উৎসব।
এই মন্দিরের বিভিন্ন আধ্যাত্মিক মহিমা লোকমুখে আজও প্রচলিত আছে, আর সেই অগাধ বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরেই প্রতি বছরই উৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক লোকের সমাগম ঘটে। উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন রকমের খাবার, আসবাব, শিশুদের খেলনা, ধর্মীয় উপকরণাদিসহ বিভিন্ন রকমের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন দোকানিরা। যুগ যুগ ধরে চলে আসা কালিমাতা মন্দিরে এই উৎসব স্থানীয়দের কাছে খাগুড়িয়া উৎসব হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেছে।
পূজা নিতে আসা ভক্তবৃন্দরা বলেন, কালিমাতা এখানে সর্বদাই জাগ্রত। মন্দিরে মাকে পূজা করতে এসেছি।
আমাদের অনেকের মানত থাকে যেমন মেয়ের বিয়ে, চাকরি, রোগমুক্তি, সন্তানদের ভালো করে পড়ালেখা ও ব্যবসার উন্নতিসহ অনেক ধরনের ইচ্ছে পূরণ হলে কালিমাতাকে পূজা দিয়ে যাই। আর মায়ের আর্শীবাদও নিয়ে যান তারা।
এ ব্যাপারে আয়োজক কমিটি সদস্য সনজিৎ কুমার জানান, প্রতি বছর অগ্রহায়ণের শেষ শনিবার কালিমাতার বার্ষিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ভারতসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মায়ের ভক্তবৃন্দরা আসেন। সব ধরনের সু-ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। তবে সরকারিভাবে সুযোগ সুবিধা পেলে আরও সুন্দর করে এই পূজা পালন করতে সহজ হবে বলে তারা জানান।
কালিমাতা বার্ষিক উৎসব উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিন, সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফয়জুল কবীর তালুকদার শাহীন, মহাদেব সাহা, শ্রী শ্রী রমেশ চন্দ্র সুত্রধর প্রমুখ।