২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ‘শহীদি শপথ’ কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে এ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের শপথবাক্য পাঠ করেন। শপথ বাক্যে তিনি বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির রক্তের শপথ, এই রক্ত বৃথা দিতে দেবো না। যে হাত তাকে হত্যা করেছে, যে শক্তি এই হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে, যে আধিপত্য এই দেশকে দাস বানাতে চায়, তার বিরুদ্ধে আমরা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাবো। এই বাংলার জমিনে যে আধিপত্যবাদ ঝেঁকে বসেছে, তা সমূলে উৎপাটন করবো।’
শপথে হত্যাকাণ্ডের বিচারের আগ পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সেই সঙ্গে বুধবার ও বৃহস্পতিবার হাদির সংগ্রামী লড়াইকে ঘিরে দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল বুধবার ও পরশু (বৃহস্পতিবার) শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে বাংলাদেশের প্রতিটি রাস্তায়-দেওয়ালে শরিফ ওসমান হাদি যে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কথা বলেছেন, তার সেই সংগ্রামকে পুরো বাংলাদেশের জনগণের কাছে দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে তুলে ধরুন। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শহীদ ওসমান হাদির এই লড়াইকে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করুন এবং তার সকল বার্তা পৌঁছে দিন। ২৪-২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশসহ বিশ্বে শহীদ হাদির লড়াইকে ছড়িয়ে দিন এবং আগামী ২৬ ডিসেম্বর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবির বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এবং পেশাদার ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
এসময় হাদির বড় ভাই শরিফ উমর বিন হাদি বলেন, ‘জীবিত ওসমান হাদির চেয়েও শহীদ সমান হাদি আজ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসছেন। যদি কেউ মনে করে, দুই মাস পর ক্ষমতা ছেড়ে দিলেই দায়মুক্তি মিলবে। তবে মনে রাখতে হবে, অপরাধীদের একদিন অবশ্যই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’