সরকারপন্থি সমাবেশকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সতর্কবার্তা’ বললেন খামেনি

১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে রাজধানী তেহরানে সরকারের পক্ষে বড় ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার তেহরানের কেন্দ্রস্থ এনগেলাব (বিপ্লব) স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ এ সমাবেশে অংশ নেন। তারা ইরান সরকারের প্রতি সমর্থন জানান এবং সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের স্মরণ করেন।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ স্কয়ারে জড়ো হন। সেখানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। তেহরান সরকার চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে বিদেশি মদদপুষ্ট ‘দাঙ্গা’ বলে উল্লেখ করছে। রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আহ্বানে তেহরানের পাশাপাশি দেশের আরও কয়েকটি শহরেও একই ধরনের সমাবেশ হয়েছে।

এই সমাবেশের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) কয়েকটি বার্তা দেন। তিনি সরকারপন্থী বিক্ষোভকারীদের অভিনন্দন জানান। খামেনি বলেন, এই সমাবেশ বিদেশি শত্রুদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। 

এদিকে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনকে ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান একসঙ্গে অর্থনৈতিক যুদ্ধ, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক চাপের মুখে রয়েছে। তার বক্তব্যের সময় সমাবেশে অংশ নেওয়া লোকজন ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান দেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে প্রয়োজনে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ন্যায্যতা, সমান অধিকার ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সংলাপের পথ খোলা আছে বলেও তিনি জানান।