২২ জানুয়ারী, ২০২৬
ডিউটি পরিশোধ ছাড়াই বন্ড সুবিধায় বিদেশ থেকে অবাধে সুতা আমদানির ফলে দেশীয় মিলগুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। তাই দেশীয় টেক্সটাইল শিল্প রক্ষায় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্তও অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিও করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি প্রাইমারি টেক্সটাইল সেক্টর দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী সংকটে রয়েছে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক সুদের হার ১৬ শতাংশে উন্নীত হওয়া, রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা হ্রাস এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে টেক্সটাইল শিল্প বিশেষ করে স্পিনিং খাত মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।’
তিনি জানান, ডিউটি পরিশোধ ছাড়াই বন্ড সুবিধায় বিদেশ থেকে অবাধে সুতা আমদানির ফলে দেশীয় মিলগুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।
‘ইতোমধ্যে ৬০টি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট মিলগুলো মাত্র ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সুতা অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে’, বলেন তিনি।
শওকত আজিজ বলেন, বিটিএমএ’র সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৮৬৯টি, যারমধ্যে স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং মিল অন্তর্ভুক্ত। এখাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের বেসরকারি খাতে একক বৃহত্তম বিনিয়োগ।
‘দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশের বেশি আসে টেক্সটাইল ও পোশাক খাত থেকে, যার প্রায় ৭০ শতাংশ কাঁচামাল সরবরাহ করে বিটিএমএ’র নেতৃত্বাধীন টেক্সটাইল শিল্প। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিটেনশন প্রায় ৩০ শতাংশ, আর অ্যাকসেসরিজসহ মোট রিটেনশন দাঁড়ায় ৪০–৫০ শতাংশে’, যোগ করেন তিনি।
ভুল তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ
তৈরি পোশাক খাতের কিছু উদ্যোক্তার বক্তব্যকে ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ১০–৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে কেবল বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে- নতুন কোনো শুল্ক বা সেফগার্ড ডিউটি আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘রপ্তানির উদ্দেশ্যে ডিউটি দিয়ে কাঁচামাল আমদানি করলে ডিউটি ড্রব্যাক (ডিইডিও) সুবিধা রয়েছে, ফলে তৈরি পোশাক খাতের অতিরিক্ত খরচ হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’
বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ‘২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে ৪০–৫০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করতে হবে। স্পিনিং শিল্প দুর্বল হলে ভবিষ্যতে এই শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে একদফা
সংবাদ সম্মেলন থেকে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা অবিলম্বে প্রত্যাহারে সরকারের প্রতি এক দফা দাবি জানানো হয়।
বিটিএমএ নেতারা বলেন, ‘বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের এইচএস হেডিং ৫২.০৫ ও ৫২.০৭-এর আওতায় ১০–৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, যাতে দেশীয় শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, বিভিন্ন টেক্সটাইল মিলের মালিক এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।