‘পর্যাপ্ত’ পণ্য সংরক্ষণ, রমজানে বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় টিসিবি

২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রতিবছর রোজা উপলক্ষে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। এবারও পর্যাপ্ত পণ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু কবে থেকে সেগুলো বিক্রি শুরু হবে, সেই সিদ্ধান্ত হয়নি। টিসিবি বলছে, যেহেতু ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন, আর তার কয়েক দিন পরই রোজা শুরু, তাই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। এদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) শঙ্কা, রোজায় বাজার নিয়ন্ত্রণ করা নির্বাচিত সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুর—রমজানে এই পাঁচ পণ্যের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। বাজারে দাম বেশি থাকায় স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা টিসিবির পণ্যের ওপর। প্রতিবছর রমজান মাস শুরুর বেশ আগেই পণ্য বিক্রি শুরু হয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। রোজা শুরু হচ্ছে তার এক সপ্তাহ পর। এসব কারণে টিসিবির রোজার পণ্য বিক্রি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

কর্তৃপক্ষ বলছে, রোজার বাড়তি কার্যক্রমে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল থেকে ছোলা কেনা শেষ হয়েছে। গুদামজাত করা হয়েছে খেজুরসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্য। সব মিলিয়ে পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না। তবে বিক্রি কবে শুরু হবে, তা নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

টিসিবির মুখপাত্র শাহাদত হোসেন বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডধারী যে উপকারভোগী আছে, তাদের বিক্রি তো মাস অনুযায়ীই হবে। আর রমজান উপলক্ষে যে ট্রাকসেলটা, এটা নির্বাচনের আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে আমরা আশা করছি, নির্বাচনের পরেই এটা শুরু হবে, যদি সরকার অনুমোদন দিয়ে দেয়।’

ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পরেই কিন্তু রমজান। প্রতিবছরই দেখা যায় যে রমজানে দ্রব্যমূল্য অস্থির হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে আমি বলব, এটা রাজনৈতিক সরকারের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। যদি মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায়, তাহলে নতুন সরকার এসেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।’

খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি ৬৪ লাখ ফ্যামিলি কার্ডধারীসহ এক কোটি পরিবারের মাঝে ভর্তুকি দিয়ে রোজার পণ্য বিক্রি করবে রাষ্ট্রীয় সংস্থা টিসিবি।