২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের প্রায় সাত ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন। সেই সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে সংবাদকর্মীদের ভ্রু কোঁচকানোর উপক্রম! বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন জানান, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসানকে আবার বিবেচনায় নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বোর্ড। এমন ঘোষণার ‘টাইমিং’ই প্রশ্ন তুলেছে সবচেয়ে বেশি। কারণ গতকালই আইসিসি জানিয়ে দেয়—ভারতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।
তাদের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড। আইসিসির ওই সিদ্ধান্তের পরপরই সংবাদ সম্মেলনে সাকিব প্রসঙ্গ ওঠায় উপস্থিত তিন পরিচালক—আমজাদ হোসেন, আসিফ আকবর ও আবদুর রাজ্জাককে বারবার একই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, ‘এই সময়ে সাকিব প্রসঙ্গ কেন?’
যথার্থ কোনো ব্যাখ্যা না মেলায় সংবাদ সম্মেলন শেষে এক পরিচালককে শোনানো হলো, ‘বিশ্বকাপ ইস্যুর মধ্যে সাকিবকে সামনে এনে ভালোই খেলে দিলেন!’ কোনো জবাব না দিয়ে গাল ভরা হাসিতে বিদায় নিলেন তিনি। সেই হাসিই যেন ইঙ্গিত দেয়—বিশ্বকাপের চাপ সামলাতে বিসিবি খেলেছে ‘সাকিব কার্ড’।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বাইরে রয়েছেন সাকিব।
দেশে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তা পূরণ হয়নি। এমন বাস্তবতায় এখন কিভাবে তাঁকে ফের দলে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—সে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। বিশ্বকাপ ইস্যু আড়াল করতেই কি সাকিব প্রসঙ্গ সামনে আনা হয়েছে?
পরিচালক আমজাদ ও আসিফের বক্তব্যে মূলকথা একটাই—সাকিবের সঙ্গে নাকি বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সেই সূত্রেই গতকালের বোর্ড সভায় তাঁর নাম উঠে আসে।
বোর্ড মনে করছে, জাতীয় দলে সাকিব এখনো প্রয়োজনীয়।
তবে দেশে সাকিবের বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিষয়টি কিভাবে সামলানো হবে—এ প্রশ্নে আমজাদ বলেন, ‘ঘরে ও বাইরে সব সিরিজের জন্যই তাঁর নাম নির্বাচকরা বিবেচনা করতে পারবেন। সাকিবের মামলাসংক্রান্ত বিষয়টি আমাদের সভাপতি দেখছেন। বৈঠকে এ সিদ্ধান্তই হয়েছে।’
এ সময় আসিফ আকবর যোগ করেন, ‘সাকিবের ব্যক্তিগত ইস্যুগুলো সরকার দেখবে।
সরকার কিভাবে সামলাবে, সেটা তাদের বিষয়। তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা সাকিবকে চাই। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার আগেও বাংলাদেশের ক্রিকেটার ছিলেন এবং বহু জয়ের সাক্ষী।’
এদিকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার ক্ষীণ আশাটুকুও গতকাল শেষ হয়ে গেছে। সাকিব ইস্যুতে সেই হতাশা কিছুটা যেন আড়াল হয়ে গেল। বিসিবিও এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান গুটিয়ে নিয়েছে। আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে আমজাদ বলেন, ‘আমরা আইসিসির বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। এ নিয়ে আলাদা কোনো আরবিট্রেশনে যাচ্ছি না।’
নিরাপত্তা ইস্যুতে আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেন আসিফ, ‘নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে আমরা কোনো দেশে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে পারি না। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।’