২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের প্রতিটি ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের নিয়ে এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল দশটা থেকে শুরু হওয়া এই ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সিইসি জানান, কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপগুলো জেনে কূটনীতিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বর্তমান কমিশনের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থার কথা জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে কোনো গোপনীয়তা নেই উল্লেখ করে সিইসি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর। কূটনীতিকরা নির্বাচনের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকে কূটনীতিকরা মূলত নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোতায়েন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে কমিশন তাদের জানিয়েছে যে, নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং আনসার বাহিনীও মাঠে সক্রিয় থাকবে। এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা শুনে কূটনীতিকরা আশ্বস্ত হয়েছেন।
ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত ছিলেন। সিইসি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং জাতি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবে।